বাজেট কাঠামোতে দরকার আমূল পরিবর্তন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাজেট কাঠামোতে দরকার আমূল পরিবর্তন

সুরম্য কর্পোরেট অফিস থেকে রাস্তার পাশের চায়ের দোকান সবর্ত্রই বাজেট নিয়ে আলোচনা। শত কোটির বাজেট এখন লাখ কোটিতে। স্বাধীনতার পর থেকে বাজেটের পরিধি বেড়েছে প্রায় ৪৩২ গুণ। গত দশ বছরেও বাজেট প্রায় তিনগুণের বেশি বেড়েছে।

তবে বাজেটের দুর্বোধ্যতার যে অভিযোগ রয়েছে, তা কমেনি। অর্থনীতিবিদরা প্রায়শ বলে আসছেন এজন্য বাজেট কাঠামোতে পরিবর্তন আনা উচিত। এবারের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরাও এ পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কাঠামো পরিবর্তিন হলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ ও ব্যয়, উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় আলাদাভাবে দেখানোর সুপারিশ করেছেন তারা। কেউ কেউ জানিয়েছেন, শুধু অর্থছাড় নয় বরং প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এর ফল সম্পর্কেও বাজেটে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা উচিত।budget_2016_2017

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম বিদ্যমান বাজেট কাঠামোটিকে আমূল পরিবর্তন করব। কিন্তু সেই উদ্যোগ এবারে নেওয়া সম্ভব হলো না। কিন্তু আগেভাগেই আমি আগামীতে যে কাঠামো অনুসরণ করব, তার একটি ধারণা দিতে চাই এবং এ বিষয়ে জনমতও পরখ করতে চাই।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাজেট কাঠামোতে মোট আয়ের একটি দিক থাকবে এবং আরেকটি দিক হবে মোট ব্যয়ের। এ দু’টি ক্ষেত্রেই সরকার এবং এর অধীনস্ত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যয়ের হিসাব দেয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ বলতে চাই যে, আয়ের দিকে থাকবে এনবিআর-এর আদায়কৃত কর-রাজস্ব, এনবিআর বহির্ভূত কর-আয়,কর ব্যতীত প্রাপ্তি ও কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত। বৈদেশিক উৎস হতে অনুদান ও ঋণ,অন্যান্য সূত্রে বৈদেশিক ঋণ যেমন সরবরাহকারী প্রদত্ত ঋণ, সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ ও ব্যাংক হতে সরকারি ঋণ-এসবও প্রাপ্তির হিসাবে থাকবে। অন্যদিকে, ব্যয়ের দিকে থাকবে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধ।

এ কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হচ্ছে আয়-ব্যয়ের হিসাবটি সহজভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অন্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, উন্নয়ন বাজেট নিয়ে প্রায়ই কিছু ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। যেমন-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অর্থায়নে যে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে তা বাজেট প্রাক্কলনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। আমার মনে হয়, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে আয় ও ব্যয়ের খাতগুলো সহজভাবে সকলের কাছে তুলে ধরা আমাদের একটি কর্তব্য। এক সময়ে বাজেট নিয়ে ভাবনা সুধী সমাজে বা জনসাধারণে তেমন স্থান পেত না। কিন্তু, বর্তমানে বাজেট প্রস্তাবে ও বাজেটভিত্তিক কর্মসূচির উপর জনগণের উৎসাহ ও আগ্রহ অনেকখানি বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে সহজভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনা খুবই কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বাজেটের কাঠামোর পরিবর্তরে ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, হয়তো আরও ডিটেইলস দেওয়া হবে। সেটা দেওয়া হলে ওয়েলকাম করব। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে।

তিনি বলেন, এখনকার বাজেটের হিসাবে অনেক গরমিল থাকে। যেমন, যে ভর্তুকি দেখানো হয়, প্রকৃত হিসাবে তার পরিমাণ অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা উচিত। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর কত আয়-ব্যয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। তাদেরকে যে ঋণ দেওয়া হয় তা প্রকৃত অর্থে ভর্তুকি। কিন্তু হিসাবে থাকে না।

তিনি বলেন, অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম হল, যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল কস্ট বেশি, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত বা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হলে ভালো। এখন তো শুধু খতিয়ান দেওয়া হয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আয়-ব্যয়ের কাঠামোর যে ধারণা তার যৌক্তিকতা আছে। তবে এতে যাতে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় আলাদা আলাদা বা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। কারণ, উন্নয়নের ব্যয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অনুন্নয়ন ব্যয়ও দিন দিন বাড়ছে। একত্রে ব্যয় বা একত্রে আয় দেখানো হলেও বিষয় ভিত্তিক বা খাত ভিত্তিক ব্যয় ও বরাদ্দ আলাদা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাজেট দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি অর্থছাড় ভিত্তিক যেটি আমাদের এখানে এখন হচ্ছে। আরেকটি রেজাল্ট বেসড, এর দিকে আমাদের ধীরে ধীরে যেতে  হবে। এ ধরনের বাজেটে শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রক্রিয়া, উপকার, উপকার ভোগী, সামাজিক ব্যয় ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

এসবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ