বাজেটে চাপের মুখে দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্প
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাজেটে চাপের মুখে দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্প

আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানিকৃত মোটরসাইকেলের উপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্প চাপের মুখে পড়বে। একইসঙ্গে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিকরা। বাজেট পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গাড়ি খাতের মধ্যে মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-খাত। প্রগতিশীল উৎপাদনের মাধ্যমে পশ্চাৎমুখী সংযোগ ঘটিয়ে এই খাতকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ সম্ভাবনার পথে সিকেডি মোটরসাইকেলে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাধা হিসেবে বিবেচিত। এসব বিবেচনায় কতিপয় শর্তসাপেক্ষে উক্ত ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করে দুই বছরের জন্য ২০ শতাংশে ধার্য করার প্রস্তাব করা হলো।

একইসঙ্গে, পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে প্রগতিশীল হারে যন্ত্রাংশ উৎপাদন সাপেক্ষে হ্রাসকৃত শুল্কহারে অপরাপর যন্ত্রাংশ আমদানিপূর্বক দেশে উন্নতমানের মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যে রেয়াতি শুল্ক সুবিধা প্রদানেরও প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।MotorCycle

এ বিষয়ে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেলের প্রায় ২৫ শতাংশ চাহিদা স্থানীয় উৎপাদকরা পূরণ করছেন। এই শিল্পের যন্ত্রাংশের জন্য আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যদি আমরা ওই পণ্য দেশের বাইরে থেকে আমদানি করি, তাহলে আমাদের দেশে গড়ে উঠা শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারতে ইতোমধ্যে বিশাল মোটরবাইক শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠিত করতে এবং আমদানি কমাতে শুরুতে বহু ধরনের লিখিত-অলিখিত আইন ও বিধি-নিষেধ জারি করেছিল ভারত সরকার। ফলে তাদের শিল্প এখন নিজেদের বাজার ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

আশঙ্কা প্রকাশ করে এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, সরকার যদি এ বিষয়ে আন্তরিক না হয় তাহলে এক পর্যায়ে আমাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। এই শিল্পের টিকে থাকা নির্ভর করছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার উপর। কথা ছিল ধীরে ধীরে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হবে। আর যারা শিল্প স্থাপন করবে তাদেরকে এই সুবিধাটা দেওয়া হবে। সেটি না করে উল্টো আমদানির জন্য সুযোগ করে দিল সরকার।

এ বিষয়ে আরবি গ্রুপের (ওয়ালটন) পরিচালন পরিচালক উদয় হাকিম অর্থসূচককে বলেন, দেশীয় শিল্পকে নিরুৎসাহিত করার জন্য সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশীয় শিল্প বিকাশের জন্য চূড়ান্ত বাজেটে সরকার আমদানিতে শিল্পকে নিরুৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিবে বলে আশা করছি। তা না হলে আমাদে দেশের এই খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষতি কমানোর জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। এতে দেশের কর্মসংস্থানে স্থবিরতাসহ সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে রোড মাস্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ অর্থসূচককে বলেন, এ দেশে অটোমোবাইল শিল্প গড়ে উঠুক- এমনটা হয়তো চায় না। যদি সরকার চাইতো, তাহলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতো না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের পোষাক শিল্প ও আইটি খাতকে গড়ে তুলার জন্য সরকার অনেক প্রণোদনা দিয়েছে। অথচ অটোমোবাইলের ক্ষেত্রে এটি করছে না।

ভারতের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন এই শিল্পোদ্যোক্তা।

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ