বৃষ্টি হলে বাঁচবে হনুমতি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বৃষ্টি হলে বাঁচবে হনুমতি

মৌসুমের সময়ও নেই বৃষ্টি। খা খা করছে চারদিক। রোদে পুড়ছে জমির ঢেলা। ফসল পাচ্ছে না শিকড়টুকু আকড়ে ধরার ঠাঁইও। ঠিক দুই বছর পর আবারও একই দুর্ভোগের মুখে পড়েছে ভারতের ২৫৬ জেলার ৩০ কোটির বেশি মানুষ। এসব এলাকার কিশোর-কিশোরী, স্বামী-সন্তান, গৃহিনী ও বিধবা সবার চোখে-মুখে যেন এখন তার প্রতিচ্ছবি। কারণ, এ দুর্যোগ যে কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার কৃষকের প্রাণ।

বিবিসির বিশেষ প্রতিবেদনে ভারতের এই খরার চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদদাতা অজয় শর্মা বলেন, খরার এই চিত্র লিখতে গিয়ে আমার কলমের কালি বারবার শুকিয়ে গেছে। আমি বর্ণনা করতে পারছিলাম না- এ চিত্র কতটা ভয়াবহতা বয়ে আনতে পারে; পরিবর্তন করতে পারে মানুষকে। আমি কর্ণাটকে দেখেছিলাম ১০১ বয়সী বিধবাকে; যার কপালে ভাঁজ পড়েছে। তার মুখে যেন ভারতের গ্রাম্য দরিদ্রতার সমাপ্তহীন সংগ্রামের ছাপ ফুটে উঠেছে।

হনুমতি

হনুমতি

ওই বিধবার নাম হনুমতি। ছোট্ট এক টুকরো জমি আছে তার। আমাকে বলেছিল, খুব শিগগির তার মরণ হবে কারণ তার ঘরে খাওয়ার কিছু নেই। এই জমিটুকু ছাড়া তার কিছু নেই। নেই দেখার কেউও। শুকিয়ে গেছে চোখের পানি। নেই কথা বলার শক্তিও।

তার কয়েকজন প্রতিবেশি বলছিল, যদি বৃষ্টি আসে তবে হনুমতি বাঁচতে পারে। কিন্তু বৃষ্টিদেবতার এই এলাকায় টানা ৩ বছর তেমন দেখা নেই।

কথা হয় তেলেঙ্গানা রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে আনজাম্মা নামে ২৯ বছর বয়সী এক বিধবার সঙ্গে। সে আমাকে বলে, তার স্বামী প্রায় ৪০০ ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার টাকা) মতোর ঋণ শোধ করতে পারেনি। সে চলে গেছে। সুতা চাষের জন্য সে এই টাকা ধার নিয়েছিল, শোধ করতে পারেনি।

সে আমাকে আরও বলেছিল, তার স্বামী জ্বরে কাতর ছিল, টাকার অভাবে ওষুধের কথাও বলতে পারিনি।

বাড়ছে ঋণ

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুই বছর আগে ভারতের গ্রাম্য এলাকায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করে। এ বছরে যদি মৌসুমী বৃষ্টি না হয়, তবে তা আবারও রেকর্ড করতে পারে। এর পাশাপাশি এলাকার প্রধান শস্য তুলার দামও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে।

২৯ বছর বয়সেই বিধবা আনজাম্মা

২৯ বছর বয়সেই বিধবা আনজাম্মা

তেলেঙ্গানার মেদাক জেলায় একটি গ্রামে দেখেছিলাম- প্রায় জনশূন্য অবস্থা। অনেকেই স্ত্রী-পুত্র নিয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তবে কোথায় গেছে সেটাও কেউ বলতে পারে না। দায় একটাই- দিন দিন ভারি হচ্ছে ঋণের বোঝা।

কদিন আগেও এই এলাকায় একটি মরদেহ পাওয়া যায়। সবাই তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করছিল, এই ব্যক্তি কি আপনার স্বামী? তখন চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু জরেছে- জানালেন, সদ্য বিধবা ওই নারী।

৫ দিনে এই গ্রামে দুইজন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। সরকারের নথিতেও এই হত্যা রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিবেদন শুধু সেই আত্মহত্যার সংখ্যা গণনার জন্য নয়। খরায় এই এলাকার সব জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। খাদ্য ও কাজের সন্ধানে এখন বেরিয়ে পড়েছে এ এলাকার মানুষ। এই প্রতিবেদন এসব মানুষের জন্যে; সরকারের মগজে ঢুকানোর জন্যে।

পানি নেই নদীতে

পানি নেই নদীতে

উত্তর প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে আমি একটি গ্রাম দেখেছি, যেখানে বিদ্যুৎ নেই। স্ত্রীর জন্য শুধু অপেক্ষা করছে পুরুষ। এ অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখনো লণ্ঠন ব্যবহার হয়। এখানে পানি নেই। এ এলাকার মেয়েদের কেউ বিয়ে করতে আসে না। অনেক ক্ষেত্রে কন্যার অভাবে পুরুষদের ২৫ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্তও ব্যাচেলর থাকতে হয়।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ