পরিবেশবান্ধব বাজেট চাই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয়/মতামত

পরিবেশবান্ধব বাজেট চাই

এই মুহূর্তে দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনধারার উপর প্রভাব বিবেচনা করলে যে বিষয়টি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হল পরিবেশ বাঁচাও। সেই প্রেক্ষিতে আমি মনে করি আমাদের আগত বাজেট প্রনয়ণ করার আগে এটা চিন্তা করতে হবে যে, তা কতটা পরিবেশবান্ধব।

বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কাজী সাজেদুর রহমান

বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কাজী সাজেদুর রহমান

আরও একটা বিষয় পরিলক্ষিত যে, দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সমগ্র জনগোষ্ঠী তার অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাতে পারছে না। এর বিশেষ কারণ হল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা খুব অল্প সংখ্যক জনগোষ্ঠীর কাছে গচ্ছিত হয়ে যাওয়া। এ জন্য বাজেট প্রণয়নে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যাতে তা গণমুখী হয়।

যে বাজেট পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করে তাই হলো পরিবেশবান্ধব বাজেট। যেমন: সরকার যখন কোন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ করে তখন একটি বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যে, উক্ত কাজে পরিবেশের উপর ক্ষতির প্রভাব কত এবং উক্ত ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পরিবেশ উন্নয়নের কোন ব্যবস্থা আছে কিনা। হতে পারে তা সবুজায়নের মাধ্যমে এবং সেই সাথে জীব বৈচিত্রের সামঞ্জস্য টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে।

বর্তমান এই শিল্পায়নের যুগে পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপন ও পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রণয়ন করা যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব পণ্য বলতে বুঝায়, যে সকল পণ্য পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করে। যে সকল পরিবেশবান্ধব পণ্য দেশীয় কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত হয়, তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় ভ্যাট মওকুফ ও ইনসেনটিভ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। আর যে সকল পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সে সকল ক্ষেত্রে পণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়ে শুণ্য শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে আসা যেতে পারে।

বর্তমানে দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) সেক্টরের ব্যাপক অবদান লক্ষ্য করা যায়। যা বংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শতকরা ৩০ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় অবদান রেখে চলেছে। এই জন্য এসএমই পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবনী পণ্য যা কিনা পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে, সে ধরনের শিল্পের প্রসার ঘটানো যেতে পারে। এ ছাড়া যে সকল উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে এই ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে তাদেরকে আরও বড় শিল্প তৈরির ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারিভাবে শিল্প প্লট প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে এবং সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের মাধ্যমে এই ধরনের শিল্পের প্রসার ঘটানো যেতে পারে।

এসএমই খাতের শিল্প স্থাপনে ব্যাংক ঋণ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে ঋণ প্রদান করে থাকে। কিন্তু এসব ঋণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, ঋণ না পাওয়া এবং ঋণের বিপরীতে সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় সরকার এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঋণ বিতরনের ব্যবস্থা করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে এসএমই ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধায়নে এসএমই ব্যাংক চালু করে সেখানে বরাদ্দ দেওয়া।

পণ্যের প্রচার ও প্রসার ব্যাতিত কোন পণ্যেরই ব্যাপকতা সৃষ্টি করা যায় না। এজন্য যে সকল পণ্য পরিবেশবান্ধব সেই সকল পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। আর সেইসাথে যে সকল পণ্য পরিবেশকে ধ্বংস করছে (যেমন- পলিথিন বা প্লাস্টিকের তৈরি ওয়ান টাইম পণ্য) সেগুলোর  উৎপাদন ও বিপনন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।

পরিবশেবান্ধব বাজেট সফল হবে তখনই যখন সেখানে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে। সে জন্য সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে এবং এ সকল পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করা যেতে পারে।

সর্বোপরি এ দেশটি আমার এবং আমাদের সকলের তাই দেশটির পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে।

লেখক: কাজী সাজেদুর রহমান, বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

E-mail: kazisazedkpc@gmail.com

এই বিভাগের আরো সংবাদ