'দেওয়ানি মামলা ৩ মাসের মধ্যে জেলা আদালতে দেওয়া যাবে না'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘দেওয়ানি মামলা ৩ মাসের মধ্যে জেলা আদালতে দেওয়া যাবে না’

সংশোধিত ‘দেওয়ানি আদালত আইন’ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি আপিল, রিভিশনসহ অন্যান্য মামলা ৩ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা আদালতে স্থানান্তর করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে এই নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ সোমবার রুলসহ এই আদেশ দেয় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইনের ৪ (৩) ধারাটি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

আইন সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হাই কোর্ট। ছবি সংগৃহীত

হাই কোর্ট। ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি দেওয়ানি মামলা বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকদের আর্থিক (ক্ষতিপূরণের অংক) এখতিয়ার বৃদ্ধি করে ১৮৮৭ সালের সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট সংশোধনের পর গত ১২ মে তার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, একজন সহকারী জজ দুই লাখের পরিবর্তে ১৫ লাখ, সিনিয়র সহকারী জজ ৪ লাখের পরিবর্তে ২৫ লাখ এবং জেলা জজ ৫ লাখের পরিবর্তে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের অংকের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

সংশোধিত আইনের  ৪ (৩) ধারায় আরও বলা হয়েছে, ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকার যেসব দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্টে আপিল হয়েছে, সেগুলো গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে।

এই সংশোধনীর বিরোধিতা করেন উচ্চ আদালতের আইনজীবীদের একটি অংশ। ৪ (৩) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার একটি রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার সাইদুল আলম খানসহ চার আইনজীবী; আজ হাইকোর্টে এর প্রাথমিক শুনানি হয়।

রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সাইদুল আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

শুনানিতে রিটকারী পক্ষে বলা হয়, সংশোধিত আইনের ৪ (৩) ধারা সংবিধানের ৩১, ১০৯, ১০১, ১৪৯ ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সাইদুল আলম খান বলেন, হাইকোর্টে এসব মামলার নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রার্থীরা আপিল বিভাগে যেতে পারতেন। কিন্তু আইন সংশোধনের ফলে এখন অনেক মামলা জেলা আদালতে চলে যাবে। এতে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ ব্যাপারে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। সিনিয়র আইনজীবীরা কথা বলছেন, আইনটি প্রয়োজনে সংশোধন ও পরিবর্তন হতে পারে। এ অবস্থায় নির্দেশনা দেওয়া সমীচীন হবে না।

অর্থসূচক/বিএন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ