ধূমপানে প্রাণ যায় ঘণ্টায় ১২ জনের
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ধূমপানে প্রাণ যায় ঘণ্টায় ১২ জনের

বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ সিগারেট, বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করছে। এর ফলাফল হিসেবে তামাক ও ধূমপান জনিত অসুস্থতায় বর্তমানে প্রতি ১ ঘণ্টায় দেশের ১২ জন মানুষ মারা যাচ্ছে।

বোরবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘মানস’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বারডেম হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী। আগামী ৩১ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্যোগে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালনের প্রাক্কালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা- মানস।

Tobbaco3

তামাক ক্ষেতে ব্যস্ত দুইজন নারী শ্রমিক।

অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন অন্যতম। দেশে তামাক গ্রহণকারীর মধ্যে ৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২৯ শতাংশ নারী।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল টোবাকো এপিডেমিক রিপোর্ট ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব এতটাই প্রকট যে, প্রতি বছর ১২ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারজনিত প্রধান ৮টি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেশে গড়ে প্রতি বছরে ১ লাখ মানুষ, প্রতিমাসে ৮ হাজার ৩৩৩ জন, প্রতি ১ দিনে ২৭৭ জন এবং প্রতি ১ ঘণ্টায় ১২ জন মানুষ মারা যাচ্ছে।

আর সারা বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে ১ জন মানুষ তামাকজনিতে রোগের কারণে মারা যাচ্ছে।

ডব্লিউএইচও এর ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে, দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত মৃত্যুর ৩০ শতাংশ, ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ৩৮ শতাংশ, ফুসফুসে যক্ষার কারণে মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে মৃত্যুর ২৪ শতাংশ ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবনের কারণে হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিবছর বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারজনিত রোগীর চিকিৎসা বাবদ সরকারের স্বাস্থ্য খাত ও রোগীর নিজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অথচ তামাক খাত থেকে সরকার বছরে আয় করে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তামাকের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, এ প্রেক্ষাপটে তামাকের ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সফল বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এ জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে, ধূমপানমুক্ত পাবলিক প্লেস হচ্ছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ সফলাতার কেন্দ্রবিন্দু। ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় ৩২টি দেশে পাবলিক এবং ওয়ার্কিং প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৯ কোটি মানুষকে ধূমপানের ক্ষতিকর পদার্থের মাধ্যমে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা গেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মেট্রপোলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস বা প্রকাশ্যে ধূমপানকারীদের শাস্তির যে বিধান রয়েছে তা খুবই নগণ্য। আমি মনে করি এ আইন সংশোধন করে শাস্তির পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিৎ। কারণ উন্মুক্ত স্থানে ধূপমানের ফলে জনগণ ও পরিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তাতে এ শাস্তি মোটেও উপযুক্ত নয়। বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য দেশের আইন প্রণেতাদের আহ্বান জানান তিনি।

অর্থসূচক/শাফায়াত/টি/

এই বিভাগের আরো সংবাদ