ফ্রান্সে শ্রমিক ধর্মঘটে স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে শ্রমিক ধর্মঘটে স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য

শ্রম আইন সংস্কারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণ। তেল পরিশোধনার থেকে শুরু করে বিমান বন্দর। সব স্তরের শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য। এদিকে সরকারও তার অবস্থান অনড় রেখেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আজ ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে পরমাণু ক্ষেত্র, বন্দর শ্রমিকরাও। এতে করে আজ দেশটির কয়েকটি ফ্লাইট ছেড়ে যেতে পারেনি। এখনও বন্ধ আছে দেশের সবগুলো রিফাইনারি। বন্দরও অচল হয়ে আছে। তেলশূন্য হয়ে পড়েছে পেট্রোল স্টেশনগুলো। গাড়িতে তেল ভরতে পারছেন না গ্রাহকরা।

শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ফ্রান্সে চলছে ধর্মঘট।

শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ফ্রান্সে চলছে ধর্মঘট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশটির ব্যবসা বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি তা ইউরোজনের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে।

এদিকে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে রিজার্ভকৃত জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে শুরু করেছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে তারা আশু সমাধান চায়। কিন্তু এই সমাধানেরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। চাপের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলছেন, আইনের সংস্কার পরিমিত করা হতে পারে।

বিতর্কিত এই শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে গেল মার্চ থেকে দফায় দফায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ জানান, দেশের মানুষ ও অর্থনীতির প্রয়োজনে সবকিছুই ঠিকমতো নিশ্চিত করা হবে।

তেলশূন্য ফ্রান্সের পেট্রোল স্টেশন

তেলশূন্য ফ্রান্সের পেট্রোল স্টেশন

প্রধানমন্ত্রী ভালস বলেন, নতুন শ্রম আইন আর তুলে নেওয়া সম্ভব নয়, তবে এখানে কিছু পরিবর্তন বা সংস্কার হতে পারে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রম আইনের এই সংস্কার মূলত তাদের চাকরি দেয়া এবং ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া আরও সহজ করবে। কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ পাবে। কেননা এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের ছুটির দিন, বেতন, কর্মঘণ্টা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অসৎ ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

ফ্রান্সের বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আগেই জানান, তিনি আগামী বছরের নির্বাচনের আগে দেশের বেকারত্বের হার কমানোর বিষয়টিই বিবেচনা করছেন। পুরনো শ্রম আইনের ফলে কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের সহজেই চাকরিচ্যুত করতে পারতো না, ফলে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রেও তারা অনেক চিন্তা ভাবনা করতো।

নতুন আইনে শ্রমিকদের চাকরিতে নিয়োগ কিংবা চাকরিচ্যুত করা সহজ হওয়ায় বেকারত্বের হারও কমবে বলে আশাবাদী সরকার। যদিও ফ্রান্সের ১৮ বছরের বেশি বয়সী শতকরা ৭০ ভাগ নাগরিক এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। এ ছাড়া এ পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে এক আবেদনে এখনো পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ গণস্বাক্ষর করেছে।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ