রোয়ানু: লবণের দাম বাড়ার শঙ্কা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রোয়ানু: লবণের দাম বাড়ার শঙ্কা

একদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম উৎপাদন, অন্যদিকে রোয়ানুর পানিতে ভেসে গেছে চট্টগ্রামে মজুদ করা হাজার হাজার মণ লবণ। এতে করে আগামীতে লবণের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশিষ্টরা। এখানকার লবণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কমে যাবে আর গ্রাহক পর্যাযে বাড়বে।

 রোয়ানুর পানিতে ভেসে গেছে চট্টগ্রামে মিলে মজুদ করা হাজার হাজার মণ লবণ। ছবি সংগৃহীত

রোয়ানুর পানিতে ভেসে গেছে চট্টগ্রামে মিলে মজুদ করা হাজার হাজার মণ লবণ। ছবি সংগৃহীত

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মে মাসের ১৫ তারিখ-এই সাড়ে ৬ মাস লবণ উৎপাদনের মৌসুম। কিন্তু চলতি বছর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই মৌসুমে লবণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। চলতি বছর ৬০ হাজার একর মাঠে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদনে ঘাটতি আছে ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন লবণ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের মজুদ করা হাজার হাজার মণ কাঁচা লবণ ভেসে গেছে। এতে লবণের মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি মণ লবণ বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকার ওপরে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে লবণ কেনা বেচা, মজুদ বন্ধ আছে। তাই এই সপ্তাহে প্রতি মণ লবণের দাম বাড়তে পারে।

তারা জানান, জোয়ারের পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদী পাড়ের মিলগুলো। কয়েকটি মিলের মালিক পুরনো লবণের বস্তা ফেলে কিছু রক্ষা করতে পারলেও নদীর পাড়ের মিলগুলোর অধিকাংশ লবণ ভেসে গেছে। এছাড়া জোয়ারের পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু মিলের কাঁচা লবণ সংরক্ষণ করার হাউজ।

তারা আরও বলেন, রোয়ানুর ৪-৫ ফিট জোয়ারের প্রভাবে ভেসে গেছে মাঝির ঘাটের ২৮ হাজার মণ লবণ। এর মধ্যে ডায়মন্ড সল্ট মিলেরই ১০ হাজার মণ কাঁচা লবণ। এছাড়া খাজা সল্ট, তানভীর সল্ট, এ কে সল্ট মিলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পপুলার সল্টের দেখভালকারী মোশাররফ মাঝি বলেন, লবণ পরিশোধনের জন্য ব্যবহৃত হাউজগুলোতে মিঠা পানি প্রবেশের ফলে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এতে একদিকে যেমন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হবে, অন্যদিকে নতুন করে হাউজগুলো তৈরি করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ২ হাজার মণ লবণ। যার ফলে নতুন লবণ সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের আসলে কৃষক থেকে কম মূল্যে লবণ সংগ্রহ করতে হবে।

মাঝির ঘাটের জননী সল্টের পরিচালক রবিউল আউয়াল জানান, জোয়ারের পানিতে শোধনের জন্য রাখা প্রায় ১ হাজার মণ কাঁচা লবণ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অপরিশোধিত লবণও নষ্ট হয়েছে।

লবণের দাম বাড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খুচরা বাজার থেকে কেনার সময় হয়তো আগের দামে কিনতে পারবো না। কারণ, আগের দামে কিনলে আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে না।

চট্টগ্রাম লবণ মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির জানান, মাঝিরঘাটে ৫৬টি লবণের মিল রয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্রায় ৪৬টি লবণের মিলের অধিকাংশ লবণ পানির সাথে ভেসে গেছে। আর টানা বৃষ্টির কারণে লবণের উৎপাদন কম হয়েছে। আমরা দেশের ঘাটতি মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে লবণ আমদামি করার চিন্তা করছি।

অর্থসূচক/সুমন/ডিএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ