নতুন রেকর্ডে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

Dollar_1ব্যবহৃত না হওয়ায় দিনদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বুধবার দিন শেষে এক হাজার ৯৪৮ কোটি ডলার অতিক্রম করে এ রিজার্ভ আবারও নতুন রেকর্ড করল। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর প্রথম বারের মত রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে তিন মাসের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ১০০ কোটি ডলার। আর চার বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৯০০ কোটি ডলার।

জানা গেছে, ২১ অক্টোবর রিজার্ভ এক হাজার ৭০০ কোটি ডলার অতিক্রম করে। ৭ মে এক হাজার ৫০০ কোটি এবং ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর এক হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। তাছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রমাগত ডলার কিনে চলেছে ফলে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে। এ রিজার্ভকে যদি ব্যবহার করা না যায় তাহলে তা শুধু অলসই পড়ে থাকবে দেশের কোন কাজে লাগবে না।

ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে তাদের তৎপরতায় রিজার্ভ বাড়ছে। বর্তমানে যে রিজার্ভ রয়েছে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বিবেচনায় স্বস্থিদায়ক এবং আরও রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে এবং থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি এবং রেমিটেন্স প্রবাহ ভাল বলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিনদিন বাড়ছে। বর্হিবিশ্বে আমদানি করা কিছু পণ্যের দাম কমেছে। যার কারণে টাকার হিসেবে আমদানি ব্যয় কমেছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকরী পদক্ষেপ, রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স আয়, ইতিবাচক রপ্তানী বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে চালের আমদানি হ্রাস এবং জ্বালানি তেল আমদানিতে আইডিবির ঋণ সহায়তায় আমদানি ব্যয়ের চাপ হ্রাস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কারণ এই রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ রিজার্ভ বৃদ্ধি সম্পর্কে অর্থসূচককে বলেন, রিজার্ভ বেশি এটা অর্থনীতির জন্য ভাল। কিন্তু সে রিজার্ভকে যদি কাজে না লাগানো যায় তাহলে অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমাদের এ রিজার্ভের বড় একটি অংশ রেমিটেন্স থেকে আসে। রেমিটেন্সের অর্থ গ্রাহকদের ডলারের বিপরীতে টাকায় রূপান্তরিত করে দিতে হয়। অনুৎপাদনশীল খাতে এ টাকা ব্যবহার করলে মুদ্রাস্ফিতি বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আমাদের মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমছে। এ সব কারণে রিজার্ভ বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. বি.এম মির্জা আজিজ অর্থসূচককে বলেন, আমাদের দেশে রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভাল দিক হলেও এ রিজার্ভ নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এটাকে কাজে লাগাতে না পারলে পরবর্তীতে এটা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি।