রংপুরে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ

Election
নির্বাচন কমিশনের লোগে

Electionবিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে  রংপুরের মিঠাপুকুর ও তারাগঞ্জ উপজেলায়।

তবে  মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোটকেন্দ্রে টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। অন্যদিকে জালভোট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই আওয়ামী লীগ কর্মী। মিঠাপুকুরে জামায়াত এবং তারাগঞ্জে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী এগিয়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সকাল থেকে ভোট শুরু হওয়ার পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার সংখ্যা বাড়ছে। তবে ভোটকেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। এদিকে মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে দুপুরে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আওরঙ্গ চৌধুরীর বিরুদ্ধে লাইনে ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। ওই কেন্দ্রের ভোটার রবিউল জানান, লাইনে এবং রাস্তায় ৩০টাকা থেকে ১’শ টাকা পর্যন্ত জোর করে ভোটারদেরকে দেওয়া হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বালুয়ামাসুমপুর ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।

এছাড়াও ইমাদপুর ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে দুই আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও দুপুরে ১২ নং মিলনপুর ইউনিয়নের জানকিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পোলিং এজেন্ট মনজুয়ারা শর্ত না মানায় প্রিজাইডিং অফিসার তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। এ নিয়ে সেখানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রিজাইডিং অফিসারের উপর চড়াও হয়। তাই সেখানে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। অন্যদিকে বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে ১০ নং বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নের হাসুয়া ফকিরপাড়া কেন্দ্রে জামায়াত সমর্থক এজেন্টদের বের করে দেয়। এতে বিজিবিসহ প্রশাসনের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছে ওই কেন্দ্রের এজেন্ট নাজমুল ও আতাউর রহমান।

অন্যদিকে তারাগঞ্জ উপজেলার একটি কেন্দ্রে দুই গ্রুপের ভোটারদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এই নির্বাচনে যেভাবে উৎসবের কথা ছিল তা লক্ষ করা যায়নি কোন উপজেলাতেই। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোন বড় লাইনও দেখা যায়নি। মিডিয়ার ক্যামেরা দেখলে কিছু  মানুষ লাইনে এসে দাঁড়াতে দেখা গেছে।

এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা এডিসি শহিদুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবি ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে।

রংপুরের ডিসি এবং ভোটের সার্বিক তত্বাবধায়ক ফরিদ আহম্মদ বলেছেন, দুপুর ২ টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ভোট কাস্ট হয়েছে। মানুষজন উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। তিনি জানান, ভোট নিরপেক্ষ করার জন্য দৃশ্যমান সব ধরনের প্রস্তুতি তারা নিয়েছিলেন এবং সেটি তারা করতেও পেরেছেন।

উল্লেখ্য মিঠাপুকুরে ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং তারাগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনা, বিজিবি, র‍্যাব, আনছার, ব্যাটালিয়ন আনছার, পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনী তৎপর রয়েছে।

মিঠাপুকুরে ১৪৩ টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮২৫ এবং তারাগঞ্জে ৪৩ টি ভোট কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৬৯৬ জন ভোটার ছিলেন।

মিঠাপুকুরে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী গোলাম রব্বানী মোটর সাইকেল প্রতিকের প্রার্থী এবং তারাগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী দোয়াত কলম প্রতীকের আনিছুর রহমান লিটনের অবস্থান ভালো বলে স্থাণীয় সূত্রে জানা গেছে।

সাকি/