চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা 
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা 

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে জোয়ারের পানি ও টানা বর্ষণে দেশের ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এই ক্ষতি সামলে নিতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

আজ রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা ভোগ্য পণ্যের বাজার চাক্তাই- খাতুনগঞ্জ এর শত শত দোকানে এখনো পানি রয়েছে। সরাতে না পেরে অনেক দোকানে পানির নিচেই ডুবে রয়েছে লাখ লাখ টাকার পণ্য। আবার অনেকে পানিতে ভিজে যাওয়া পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, মরিচ, চাল ও শুটকিসহ নানা ধরনের ভোগ্যপণ্য পানি থেকে সরিয়ে শুকানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এখনো অনেক দোকান, গুদাম বন্ধ রয়েছে।

দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি

দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি

এদিকে আজ সকাল থেকে খাতুনগঞ্জের রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাক আসতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে ট্রাক আসা বাড়ছে। তবে চাক্তাই- খাতুনগঞ্জের অনেক গুদাম ও দোকানে পানি উঠেনি। এসব দোকানে আজ বেচাকেনা চলছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে জোয়ারে পানি আর বাড়বে না।

অনেক ব্যবসায়ী জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় খাতুনগঞ্জ। শুক্রবার এমনিতে বন্ধের দিন ছিলো। তারপর আবার শনিবার সকাল থেকে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বেশিরভাগ কর্মচারি আড়তে আসেনি। এর মধ্যে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স শাহমুছা ট্রেডার্স এর স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ সেলিম অর্থসূচককে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে ৫ হাজার ট্রেডিং হাউজ আছে, যার প্রতিটা কোনো না কোনোভাবে জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এই ক্ষতি সামলে নিতে সরকারে এগিয়ে আসা উচিত।

তিনি আরও বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ছোট-বড় ৭ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এক একটি আড়তে কমপক্ষে ৫০-৬০ কোটি টাকার পণ্য। আর এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার মতো প্রস্তুতি আমাদের ছিল না। তাই ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।

মেসার্স এশিয়া ট্রেডিং মালিক সজল মহুরী জানান, আমাদের মজুদ পণ্যের এক তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গেছে। গুদামের প্রত্যেক সারির নিচের ৩-৪ বস্তা পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সগীর আহমেদ জানান, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল, গোডাউনে পানিতে সয়লাব হয়েছে। এই এলাকার সব প্রতিষ্ঠান কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানে আমাদের প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। ব্যাংকের সুদ, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খেতে হবে।

অর্থসূচক/সুমন/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ