তামাকজাত পণ্যের প্রচলিত মূল্যস্তর প্রথা বাতিলের দাবি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তামাকজাত পণ্যের প্রচলিত মূল্যস্তর প্রথা বাতিলের দাবি

সিগারেটের করারোপের জন্য প্রচলিত মূল্যস্তর প্রথা তুলে দেওয়াসহ আসন্ন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের সিগারেটে একই হারে এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তামাক বিরোধীদের দাবি, সিগারেটের খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সমপরিমাণ এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে। একই সাথে বিড়ির উপর খুচরা মূল্যের ৪০ শতাংশ, জর্দা এবং গুলের উপর খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে দাবি জানায় তারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার এক বিশেষ প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, উল্লেখিত দাবিগুলো ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণে তামাকের ওপর বিদ্যমান রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে  ২৫ শতাংশ করার দাবি তাদের।

এ ব্যাপারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে,  কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে তামাকের দাম বাড়ালে তামাক ব্যবহার সন্তোষজনক হারে হ্রাস পায়।

তিনি এ সংক্রান্ত একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, করারোপের ফলে তামাকের প্রকৃত মূল্য ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে নিম্ন ও মাঝারি আয়ের লোকজনের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৮ শতাংশ হ্রাস পায়, যা জনস্বাস্থ্যের নিরিখে প্রশংসনীয় সূচক হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু বাংলাদেশে তামাক কর বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কার্যকর করারোপের অভাবে এখানে তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। উল্টো সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে তামাকের দাম সস্তা থেকে সস্তাতর হয়েছে।

এবিষয়ে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স (সিটিএফকে) এর লীড কনসালটেন্ট শরিফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্তত তিনটি কারণে তামাকপণ্যে কার্যকরভাবে করারোপ করা জরুরি। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাকপণ্য দিন দিন সস্তা থেকে সস্তাতর হচ্ছে। ফলে এর ব্যবহার ও ব্যবহারজনিত ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে যা রোধ করা জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্যমতে, পৃথিবীতে যেসব দেশে সিগারেটের মূল্য অত্যন্ত কম বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এক্ষেত্রে নেপাল ও মায়ানমার এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান।ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স (সিটিএফকে) এর ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, ২০০৮-০৯ সালে ৫০০০ শলাকা বিড়ি কিনতে যেখানে মাথাপিছু জিডিপি’র ১ দশমিক ৮২ শতাংশ ব্যয় হতো সেখানে ২০১৩-১৪ সালে একই পরিমাণ বিড়ি কিনতে ব্যয় হয়েছে ১ দশমকি ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ বিড়ির প্রকৃত মূল্য কমে গেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার বরাত দিয়ে বাসস বলছে,  উপোরোক্ত প্রস্তাবনা মেনে যদি বাংলাদেশে একই হারে সুনির্দিষ্ট সিগারেট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করা হয় যার পরিমাণ খুচরা মূল্যের ৭০ ভাগ এবং বিদ্যমান একাধিক মূল্যস্তরভিত্তিক এড-ভ্যালোরেম কর কাঠামো প্রথা বাতিল করা হয়, তাহলে: প্রায় ৭০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী সিগারেট সেবন ছেড়ে দেবেন। আর ৭০ লাখেরও বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। আর বছরে সরকার অতিরিক্ত ১,৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করবে।

একই ভাবে বিড়ির ক্ষেত্রে এই সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স এর খুচরা মূল্যের ৪০ভাগ হলে: প্রায় ৩৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী বিড়ি সেবন ছেড়ে দেবেন । শুধু তাই নয় প্রায় ৩৫ লাখ তরুণ বিড়ি সেবন শুরু করা থেকে বিরত হবে আর সরকারের বাড়তি ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে তাদের একটি প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, তামাকখাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তামাক ব্যবহারের কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে তার দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। তামাকজনিত মোট ক্ষয়ক্ষতি হিসেব করলে তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ