খরগোশের দ্বীপ

খরগোশদ্বীপটিতে নেই কোনো শিকারি! কাজেই নির্ভয়ে দ্বীপে ঘুরে বেড়ায় তিনশয়েরও বেশি খরগোশ। আর খরগোশদের কারণে দ্বীপের নামই হয়ে গেছে ‘উসাগি শিমা’ মানে ‘খরগোশের দ্বীপ’। একসময় যে কেউ এখানে ঘুরতে যেতে পারতেন না। কিন্তু এখন সেখানে ভিড় জমান অনেক পর্যটক। পর্যটক আসলেই তার চারপাশে ভিড় জমায় খরগোশরা। পর্যটকেরা তাদের খেতে দেন। ফলে তাদের পেছনে ঘুরঘুর করে খরগোশগুলো। সম্প্রতি সেখানে একজন নারী পর্যটক ঘুরতে গেলে তাকে ছেয়ে ধরে খরগোশ গুলো।

কিন্তু এই খরগোশ দ্বীপের পেছনে আছে অনেক কথা। শুনুন তাহলে-  জাপান সাগরের হিরোশিমা আর শিকোকু নামে দুটো দ্বীপ আছে। ওই দ্বীপদুটোর মাঝেই ছোট্ট একটা দ্বীপ ওকুনোশিমা। এই ওকুনোশিমা দ্বীপই এখন খরগোশদের। কিন্তু দ্বীপটা খরগোশদের হলো কেমন করে?

সে বহু পুরাতন দিনের কথা। ১৯২৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ওকুনোশিমা ছিলো জাপানের সেনাবাহিনীর অস্ত্রগুদাম। তবে বন্দুক, রাইফেল, ট্যাংক কিংবা গোলাবারুদের মতো অস্ত্র নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মাস্টার্ড গ্যাস নামে এক ধরনের গ্যাস ব্যবহৃত হতো। এই দ্বীপে রাখা হয়েছিলো ছয় কিলো টন মাস্টার্ড গ্যাস। প্রায় ১৬ বছর ধরে  জাপানের মানচিত্র থেকেও দ্বীপটিকে মুছে ফেলা হয়েছিলো। যাতে করে মানুষ এর খবর জানতে না পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সব ধরনের রাসায়নিক পদার্থ পুড়িয়ে ফেলা হয়। আর কিছু মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। এবং এ ব্যাপার নিয়ে একেবারেই চুপচাপ হয়ে যায় জাপানি কর্তৃপক্ষ। আর ওই দ্বীপটাতে মানুষজনের আনাগোনাও ছিলো নিষিদ্ধ। কারণ মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানান গ্যাস ভেসে বেড়াতো দ্বীপের বাতাসে। তারপর কেটে গেলো অনেক বছর। আবার প্রাণীর বসবাসের উপযুক্ত হয়েছে কিনা এটা পরীক্ষা করতে এক পাল খরগোশ এনে ছেড়ে দেয়া হয় দ্বীপটাতে।

কেউ কেউ বলে থাকেন, ১৯৭১ সালে একদল স্কুলশিক্ষার্থী বেড়াতে এসেছিলো দ্বীপে। সঙ্গে আনা আটটি খরগোশকে ওরাই ছেড়ে দিয়ে যায় ওখানে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

এখন অবশ্য যে কেউ দ্বীপে ঘুরতে যেতে পারেন। সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে নিজেদের পোষা প্রাণীও। কেবল কুকুর আর বিড়াল নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। ফলে এখন খরগোশ দ্বীপ দেখা সহজ হয়েছে পর্যটকদের । সূত্র ডেইলি মেইলের।

এস রহমান/