'৫-৬ টাকায় বিদ্যুৎ দিলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে শিল্প'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘৫-৬ টাকায় বিদ্যুৎ দিলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে শিল্প’

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন ও পাশের জন্য অধিবেশন বসছে আগামী ১ জুন। এছাড়া অর্থবছরের প্রথমদিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূসক আইন। বাস্তবায়নের আগে এই মূসক আইন সংশোধনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

নতুন মূসক আইন এবং নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে অর্থসূচকের সঙ্গে কথা বলেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

অর্থসূচক: বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে?

আবদুল মাতলুব আহমাদ: বর্তমানে আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যাস সংকট। দেশে গ্যাসের অভাব লক্ষ্যণীয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৮ সালের পরে বিশ্ববাজারের দামে গ্যাস কিনতে হবে। তাহলে আমরা শিল্প চালাবো কীভাবে? ডিজেলের দামও কিন্তু অতটা কমেনি। অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিজেলে কিছুটা হলেও লাভ করছে সরকার; তা করুক। তবে আমাদেরকে ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে। দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কমপক্ষে একটা এনার্জি ব্যবস্থা (বিদ্যুৎ, গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি) যদি নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে বর্তমানে যে ধীর গতিতে শিল্পায়িত হচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। এক্ষেত্রে সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সত্ত্বেও আমরা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছতে পারছি না। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে অন্তত একটা যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই হবে।

Abdul Matlub

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

অর্থসূচক: শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

আবদুল মাতলুব আহমাদ: এফবিসিসিআই সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। তখন তিনি আমাদের চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেও সংযোগ পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। সংযোগ পেলেও তা প্রতিনিয়ত আপডাউন করে। সারাক্ষণ এক গতিতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।

অর্থসূচক: আসছে বাজেটে এ ব্যাপারে কী দাবি জানিয়েছেন?

আবদুল মাতলুব আহমাদ: আগামী ২ বছর আমাদেরকে ৫-৬ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে। তা না হলে শিল্পকে আমরা যে পর্যায়ে নিতে চাচ্ছি- তা পারবো না। যতক্ষণ না পর্যন্ত শিল্পকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিতে পারবো, ততক্ষণ আমরা কর্মসংস্থান দিতে পারবো না। আর কর্মসংস্থান দিতে না পারলে জনগণের মধ্যে হতাশা কাজ করবে।

অর্থসূচক: চেম্বারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই বাজেটে একটা বরাদ্দ চাওয়া হয়। আসছে বাজেটে কী পরিমাণ বরাদ্দ চেয়েছেন?

আবদুল মাতলুব আহমাদ: আসছে বাজেটে আমাদের চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছি। চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনের মোট বরাদ্দের একটি তালিকা তৈরি করেছি। শিগগিরই এ বিষয়ে আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবো। আশা করি, ব্যবসাবান্ধব এ সরকার আমাদের সহযোগিতা করবেন।

অর্থসূচক: নতুন মূসক আইন সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

আবদুল মাতলুব আহমাদ: নতুন আইনে আমরা ৭টি যৌথ কমিটি অর্থাৎ সেভেন পয়েন্ট এগ্রিমেন্ট করেছি। এই আইনের বাস্তবায়ন হলে আমাদের কোনো সমস্যা থাকবে না। কারণ- নতুন মূসক আইনে টার্নওভার ট্যাক্সের কথা রয়েছে। টার্নওভার ট্যাক্স ফিক্সড হলে ছোট শিল্প কারখানার জন্য পরোক্ষভাবে ফিক্সড মূসক চলে আসবে। ভ্যাট আরোপের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১ থেকে ৪ বছর সময় দেওয়া হোক। এসব মেনে ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হোক; কোনো সমস্যা নেই।

অর্থসূচক: নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে ১৭০টি পণ্যে সম্পূরক শুল্ক থাকবে। বাকি প্রায় ১৩০০ পণ্যে থাকবে না। সেক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

আবদুল মাতলুব আহমাদ: কেউ নতুন ব্যবসা শুরু করলে তাদের সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়; ধীরে ধীরে তারা বড় হয়। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে, যারা বড় হয়েও বেশি লাভের জন্য সহায়তা বজায় রাখতে চায়। তবে আমাদের এখন সজাগ থাকতে হবে। আজকে দেশে ৮০ শতাংশ ব্যাংক প্রাইভেট সেক্টরে; বিদ্যুতের ৭৫ শতাংশ এবং পরিবহনের ৯৩ শতাংশ বেসরকারি খাতে। আমাদেরকে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। যেসব শিল্পে আর সহায়তার দরকার নেই, তাদেরকে আর সহায়তা দেওয়া যাবে না। যেসব শিল্পে সহায়তার প্রয়োজন আছে, সেগুলোকে বাছাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

অর্থসূচক: আসছে বাজেট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

আবদুল মাতলুব আহমাদ: আমার কাছে সবসময় বড় বাজেট ভালো লাগে। বাজেট যত বড় হবে, ততো ভালো। কেননা, এই বাজেট শেষের দিকে কমিয়ে নিয়ে আসা হয়। টার্গেট বেশি থাকা ভালো। বড় টার্গেট থাকলে, বড় কিছু অর্জনের জন্য চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়। আমরাও বড় টার্গেট নির্ধারণ করি। ইনশআল্লাহ এবারের রেভিনিউ অনেক ভালো হবে।

অর্থসূচক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আবদুল মাতলুব আহমাদ: আপনাকে এবং অর্থসূচক পরিবারকে অনেক ধন্যবাদ।

অর্থসূচক/মেহেদী/এমই/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ