সুইফট টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

সুইফট টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি

রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের (আরটিজিএস) সঙ্গে সুইফটের সংযোগ স্থাপনকারী টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। এ ব্যাপারে পাঠানো ই-মেইলের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুইফটকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

গত ১৬ মে পাঠানো ওই ই-মেইলে বলা হয়, সিআইডি আগামী সপ্তাহে নাগাদ ঢাকায় সুইফটের সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। গত বছরের শেষ ৬ মাসে এসব টেকনিশায়ানদের পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাদের জাতীয়তা বা পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়নি। এসব টেকনিশিয়াদের সঙ্গে সুইফটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

BB Hacked

ছবি: প্রতীকি

অভিযোগ রয়েছে, এসব টেকনিশিয়ানরা আরটিজিএসে সুইফটের যুক্ত করার সময় সিস্টেমকে নিরাপদ করতে এসব টেকনিশিয়ানরা যথাযথ প্রক্রিয়া অণুসরণ করেননি। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট ম্যাসেজিং অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। এমনকি সাধারণ একটি পাসওয়ার্ডেই এতে প্রবেশ করা যেত।

রিজার্ভ চুরির সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই টেকিনিশিয়ানরা আরটিজিএসের সঙ্গে সুইফটের সংযোগ স্থাপনের সময়ে কিছু ঝুঁকি তৈরি করেন। সুইফটের টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে সিআইডির কাছে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

ওই সুত্র জানায়, তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।

জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে সুইফট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক ব্যাংক লেনদেনে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতিটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা দাবি করে আসছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির জন্য সুইফট দায়ী নয় এবং দায় চাপানো যাবে না।

তবে ঘটনা তদন্তে সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রধান ফরাস উদ্দিনও সম্প্রতি  রিজার্ভ চুরি হওয়ার জন্য সুইফটকে দায়ী করেছেন।

এর আগে, বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, আরটিজিএসের সঙ্গে সুইফটের যুক্ত করার সময় যে দুর্বলতা তৈরি হয় তার সুযোগে রিজার্ভ হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর জন্য সুইফট টেকনিশিয়ানরাই দায়ী।

প্রসঙ্গত, সুইফট ম্যাসেজিং সিস্টেম ব্যবহার করে গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিউইর্য়ক ফেডারেল রিজার্ভের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় অর্থ স্থানান্তরের যেসব ভুয়া আদেশ পাঠানো হয়, তার মধ্যে পাঁচটির মাধ্যমে এ অর্থ স্থানান্তরিত হয়।

অর্থসূচক/এসবি/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ