নূরজাহান ও এস এ গ্রুপের চার শিল্পপতির জামিন লাভ

Coart

জামিনব্যাংকের  দায়ের করা  ১২৯ কোটি টাকার চেক প্রতারণা মামলায় নূরজাহান ও এস এ গ্রুপের চার কর্ণধারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

চার শিল্পপতিরা হলেন, নূরজাহান গ্রুপের মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহম্মদ এবং তার ভাই  একই প্রতিষ্ঠানে পরিচালক ও একই গ্রুপের মেসার্স জাসমিয়া ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।

এছাড়া আরেক গ্রুপ কোম্পানি এস এ গ্রুপের সামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাবদ্দিন আলম ও তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আলম।

ব্যাংকের  দায়ের করা ১২৯ কোটি টাকার চেক প্রতারণা মামলায় গতকাল একই আদালত নূরজাহান ও এস এ গ্রুপের চার কর্ণধারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এদের প্রত্যেককের বিরুদ্ধে আলাদা ভাবে ৩ টি করে মামলা ছিল বলে জানান ওই আদালতের বেঞ্জ সহকারী মো. ওমর ফুয়াদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়,  এস এ গ্রুপ ঋণ পরিশোধের জন্য ঢাকা ব্যাংকের অনুকূলে ৪৯ কোটি ১০ লাখ টাকার চেক এবং কমার্স ব্যাংকের অনুকূলে ২৪  কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করা হয। চেক গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ‘অপর্যাপ্ত তহবিলের ’ জন্য চেকগুলো ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে জানানো এবং দু’দফায় লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০১৩ সালের ৪ জুলাই অগ্রণী ব্যাংকের আগ্রবাদ শাখার সিনিয়র অফিসার সুলতান আহমেদ বাদি হয়ে নিগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট এর ১৩৮ ও ১৪০ ধারায় মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী কে আসামি করা হয়।

নূরজাহান গ্রুপের মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে কমার্স ব্যাংকের ৫৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়। এ ঋণ পরিশোধের অংশ হিসাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় চেক দিলে তা পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকায় ডিজঅনার হয়। এর পর কয়েক দফা লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার অফিসার মোশাররফ হোসেন বাদি হয়েই তিনটি মামলা দায়ের করেন।

আদালতের বেঞ্জ সহকারী মো. ওমর ফুয়াদ জানান, এস এ গ্রুপের এমডি শাহাবুদ্দিন  দম্পত্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারিত ছিল গত সোমবার। আর নূরজাহান গ্রপের দুই কর্ণধারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর শুনানি গতকাল  মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হলেও অভিযুক্তরা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আগামি ৫ মার্চ অভিযোগ গঠনের পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেছেন বলে জানান তিনি।