কন্টেইনার খালাসে ধীরগতি, বিপাকে আমদানি-রপ্তানিকারকরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কন্টেইনার খালাসে ধীরগতি, বিপাকে আমদানি-রপ্তানিকারকরা

চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিগুলোতে হঠাৎ করেই কন্টেইনার খালাসের গতি কমে গেছে। ফলে আমদানি করা পণ্য নিয়ে আসা জাহাজগুরো সময়মতো জেটিতে ভিড়তে পারছে না; আবার রপ্তানি পণ্য বোঝাই জাহাজগুলো ঠিকভাবে বন্দর ছাড়তে পারছে না।

জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামাতে ধীরগতি এবং বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে থাকা কন্টেইনার দেরিতে খালি করার কারণে বিপাকে পড়েছেন পণ্য আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা। ধীরগতির জন্য সিসিটি-এনসিটি ও সাধারণ কার্গো বার্থ সরঞ্জাম; শ্রমিক সংকট এবং জিসিবির নাব্য কম হওয়াকে মূল সমস্যা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম অর্থসূচককে বলেন, এনসিটি ও সিসিটি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে হাজারের বেশি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। এতে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার শ্রমিক দরকার হলেও বর্তমানে এক হাজারেরও কম শ্রমিক দিয়ে কাজ চালাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে কন্টেইনারের পণ্য খালাস করতে বেশি সময় লাগছে।

ctg-port

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি সংগৃহীত

বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, আগে নিয়মিত ৫২টি কন্টেইনার জাহাজ যাতায়াত করতো; বর্তমানে ৭০টি জাহাজ যাতায়াত করছে। দক্ষতার সঙ্গে কন্টেইনার খালাস এবং বোঝাইয়ের জন্য বেশি সংখ্যক এডহক ভেসেল যাতায়াতেরও অনুমতি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে কয়েকটি জেটি অকেজো পড়ে থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

এতে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সালে ২০ লাখের বেশি কন্টেইনার ওঠানামা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে; যা এ বন্দরের একটি রেকর্ড। এই সংখ্যা আরও বাড়বে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। বড় জাহাজকে বন্দরে প্রবেশের সুযোগ দিতে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা করছে কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করায় ছোট জাহাজের যাতায়াত বেশ কমেছে। বড় জাহাজ প্রবেশের সুযোগ রয়েছে শুধু নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি)। সেগুলো প্রবেশের সুযোগ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই সেখানে। বন্দর, টার্মিনাল অপারেটর ও অফডকের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট নেই। যা আছে তা এত জাহাজের কন্টেইনার সামলানোর জন্য একেবারেই অপ্রতুল।

আমদানিকারকরা অভিযোগ করেন, জাহাজ থেকে কন্টেইনার খালাসের পর রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদনশীলতা অনেক কমে গেছে। ফলে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বেড়ে গেছে। খালাস প্রক্রিয়াও গড়ে ১৫ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হচ্ছে।

এদিকে শিপিং এজেন্টরা জানান, ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনার খালাস চলছে ধীর গতিতে। তাতে জাহাজ থেকে ইয়ার্ডে কন্টেইনার নামানোর কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিটি জাহাজকে অতিরিক্ত ২ থেকে ৫ দিন জেটিতে থাকতে হচ্ছে।

শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের পরিচালক ওয়াহিদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটিতে সবচেয়ে বেশি অপারেশন হয়। কিন্ত  এই টার্মিনালে জাহাজ আসা যাওয়ার জন্য মাত্র একটি গেট চালু রয়েছে। গেট বাড়ানো না হলে ধীরগতির সমস্যা কাটবে না। একইসঙ্গে ১২ ও ১৩ নম্বর বার্থেও সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সদস্য জাফর আলম বলেন, ইকুইপমেন্ট নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে- তা সত্য নয়।  প্রায় প্রতি মাসে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড করছে বন্দর। তবে কন্টেইনার খালাসে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। প্রতি বছর বাজেটের আগে এমন সমস্যা হয়। এবার বাজেট ও রমজান একইসঙ্গে হওয়ায় আমদানি বেড়েছে। তাই সমস্যাও বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২-১ দিনের মধ্যে বন্দরে নতুন আরটিজি আসছে। কয়েকদিনের মধ্যেই কন্টেইনার জট সমস্যার সমাধান হবে।  তাছাড়া সংশ্লিষ্টরা সমান গতিতে কাজ করলে সমস্যা সমাধানে খুব বেশি সময় লাগবে না।

অর্থসূচক/ডিআর/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ