খুনের আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

খুনের আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল

কুমিল্লার সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সেই আলামত পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।

সিআইডির কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খান জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় তনুকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তনুর শরীরে মোট চারজনের ডিএনএ প্রোফাইলের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রোফাইল তনুর রক্তের। বাকি তিনটি প্রোফাইল পৃথক তিনজনের। পরীক্ষায় এই তিনজনের বীর্যের আলামতও পাওয়া গেছে।

সিআইডির অপর একটি সূত্র জানায়, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন কিছুদিন আগেই সিআইডির কাছে এসেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, সিআইডির পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খানের বক্তব্যকে সটিক বলে মনে করি। আমি এমনটি ধারণা করেছিলাম।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, দেরিতে হলেও তনু হত্যার জট খুলছে। আমার মেয়েকে যারা ধর্ষণ করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।

গত ১০ মে তনুর মা বলেছিলেন, সেনানিবাসের ভেতরে তনুকে হত্যা করা হয়েছে। সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহী জাহিদ তনুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর তনু ঘরে ফিরেনি। ওই দুই সেনাসদস্য এ হত্যায় জড়িত।

roadmarch for Tanu

তনু হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লা অভিমুখে গণজাগরণ মঞ্চের রোডমার্চ।

গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের জন্য তনুর মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়। তখন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তনুর শরীর থেকে কিছু নমুনা নেওয়া হয়েছিল। ওই দিন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব স্পষ্ট হবে।

এরপর ১ এপ্রিল পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয় তনু হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, তনুর বাবার ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের একজন অফিস সহায়ক। পরিবারের সঙ্গে সেনানিবাসেই থাকতেন তনু। গত ২০ মার্চ রাতে বাসার কাছেই একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তনুর হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে কুমিল্লায় অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তার সহপাঠীরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তনুর হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে দেশের মানুষ।

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়ায় এর সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে গত ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে করে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই কর্মসূচি থেকেই ২৫ এপ্রিল অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দেয় প্রগতিশীল ছাত্র জোট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য।

তনুর মরদেহ উদ্ধারের পরদিন প্রথম ময়নাতদন্ত হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে। গত ৪ এপ্রিল প্রথম ময়নাতদন্তের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হয়নি। প্রতিবেদনে তনুর মাথার পেছনের জখমের কথা গোপন করা হয় এবং গলার নিচের আঁচড়কে পোকার কামড় বলে উল্লেখ করা হয়।

এনিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের পর দেড় মাস পার হলেও এখনও এর প্রতিবেদন জমা দেয়নি মেডিকেল বোর্ড। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলছেন না মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

অর্থসূচক/বিএন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ