ঘাটতি বাজেট বাড়ছেই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঘাটতি বাজেট বাড়ছেই

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড়। আসন্ন বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর এই বাজেটের জন্য সাম্ভব্য রাজস্ব ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে আসন্ন বাজেটে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকা। যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি।

অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২ জুন ঘোষিত হতে যাওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি হবে বর্তমানে মোট দেশজ প্রবৃদ্ধি বা জিডিপির ৫ শতাংশ।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, আসছে বছরে বাজেটে বড় বড় প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট থাকবে। মহেশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দরসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প তৈরি করা হবে। আর একারণে উন্নয়ন বাজেটের আকারও বড় হচ্ছে। গত পরশু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট চূড়ান্ত করেছে সরকার।

তবে ধারাবাহিকভাবে বাজেট ঘাটতি বাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। দেখা গেছে গত কয়েক বছর ধরেই বাজেটের আকার বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ঘাটতির পরমিাণও।

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মনে করেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানো না গেলে বড় বাজেট করে সরকার প্রতিবছর বিশাল বাজেট ঘাটতিতে পড়ছে। ফলে বিদেশি সাহায্য অনুদানের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

তার মতে, স্বনির্ভর দেশ গড়তে এই প্রবণতা থেকে বেড়িয়ে আসেত হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট করার পরামর্শও দেন তিনি।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেছেন, বাজেটের আকার বড় হলে ক্ষতি নেই। এটি দেশের ইতিবাচক প্রৃদ্ধির ইঙ্গিত করে।

তার মতে,  বাজেটের আকার বড় হলে তা নিয়ে সমালোচনা না করে রাজস্ব বাড়ানো যায় কী উপায়ে বাড়ানো যায় সে পরামর্শ দেওয়া উচিত।

আর প্রত্যের উচিত তার আয় বা অন্য খাতে আরোপিত কর যথাযথভাবে পরষশোধ করে। তার মতে, দেশের সকলে সঠিক নিয়মে কর দিলে আর বাজেট ঘাটতির মুখে পড়তে হবে না।

তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণে বেশি মাত্রায় ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। সরকার বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে ঋণের সুদের হার কমছে না। ফলে সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসরকারি খাত।

উল্লেখ, ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ৩১ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ওই অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছিল ১১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বা ৩৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

২০১১-১২ অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়েছিল ২৮ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ। ঘাটতি বেড়েছিল ৫ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়েছিল ৩০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। একই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছিল ২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়েছিল ২৮ হাজার ১৫ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি বেড়েছিল ১২ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা বা ২৬ দশমক ৮৫ শতাংশ।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ৪৪ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি বাড়ছে ২৫ হাজার ৩১১ কোটি টাকা বা ৪১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিলো প্রায় ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ