ফের আন্দোলনে খুলনার পাটকল শ্রমিকরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

ফের আন্দোলনে খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে শিল্পনগরী খুলনার পাটকলগুলো। বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ সোহরাব হোসেনকে টার্মিনেট করার প্রতিবাদে ফের আন্দোলনে নেমেছে খুলনার পাটকল শ্রমিকরা।

সেই সাথে তাদের এবার দাবি আদায় করেই ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের নেতারা।khulna

কয়েকদিন আগে টানা আন্দোলনের ফলে বকেয়া বেতনসহ পাটকলের শ্রমিকদের পাঁচদফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও দাবি পূরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে ফের আন্দোলনের হুমকি দেন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ সোহরাব হোসেন। আর এই কারণেই তাকে টার্মিনেট করা হয়।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে তার কর্মস্থল ক্রিসেন্ট জুটমিলের নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেন মিল কর্তৃপক্ষ। তিনি এ মিলের তাঁত বিভাগের লাইন সরদার পদে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি মিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন ৪ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির সমর্থনে খুলনাঞ্চলের টানা আন্দোলনের সফল নেতৃত্ব দেন। যার প্রেক্ষিতে সরকার শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়।

হঠাৎ করে সোহরাব হোসেনকে টার্মিনেট করার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বুধবার রাত ১২টার দিকে মিল গেটে জড়ো হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নোটিশ বোর্ড থেকে সোহরাব হোসেনের টার্মিনেট সংক্রান্ত নোটিশ ছিড়ে ফেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দাবি পূরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে ফের আন্দোলনের হুমকি দেওয়ায় সোহরাবকে টার্মিনেট করা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ক্রিসেন্ট মিলের শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন। কোনো শ্রমিকই সকালের শিপ্টে কাজে যোগ দেননি।

বন্ধ রয়েছে মিলের উৎপাদন। শ্রমিকরা মিলের প্রধান ফটকে মাইক লাগিয়ে গেট সভা করছেন। তারা অবিলম্বে শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেনের টার্মিনেট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

ক্রিসেন্ট জুটমিল সিবিএ’র সভাপতি দ্বীন ইসলাম ও কার্যকরী সদস্য এসএম আলতাফ হোসেন জানান, তারা বৃহস্পতিবার সকালের পালা থেকে কাজ বন্ধ রেখে গেট সভা করছেন। গেট সভা শেষে সকাল ১০টার দিকে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সভা করা হবে। ওই সভায় পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও মিলের প্রকল্প প্রধান রফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তিনি নিজের ব্যবহৃত সেলফোনটি বন্ধ রেখেছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) মুখপাত্র মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, খুলনাঞ্চলের স্টার জুটমিল, প্লাটিনাম-জুবিলী জুট মিল, ক্রিসেন্ট জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, খালিশপুর জুট মিলসহ সাতটি পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ভাতাসহ ৫ দফা দাবিতে ৪ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। পাশাপাশি ৫ এপ্রিল থেকে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচী শুরু হয়। মধ্যে ৭ এপ্রিল থেকে ৩ দিন স্থগিত থাকার পর ১১ এপ্রিল থেকে আবার অবরোধ করেন। এতে পাটকলগুলো অচল হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল পাট মন্ত্রনালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বৈঠক করেন। শ্রমিকদের ৪ সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ, আরও ৬ সপ্তাহের মজুরি, পিএফ ফান্ড এবং গ্রাচ্যুইটিসহ অন্যান্য বকেয়া ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ, আন্দোলনের ৯ দিনের হাজিরা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিক নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

এদিকে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার দুপুরে নগরীর খালিশপুরে জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ। এতে লিখিত বক্তব্যে সংগঠেনর আহ্বায়ক মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, গেল ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি, ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতার এরিয়া ও ধর্মঘট চলাকালে ৯ দিনের হাজিরার টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও জুটমিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) তা বাস্তবায়ন করেনি।

শুধু শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করা হয়। এছাড়া পাটক্রয়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ শ্রমিক পক্ষের।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বিজেএমসি’র সাড়ে ১০ বিঘা সম্পত্তি বিক্রি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে শ্রমিক নেতারা মন্তব্য করেন। তারা সম্পত্তি বিক্রি না করে অন্য উপায়ে অর্থ সংগ্রহের দাবি জানান। তারা বলেন, মিলগুলো আবারও পাটশূণ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মিলগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

এসআর/টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ