পানি সংকটে উৎপাদন কমছে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পানি সংকটে উৎপাদন কমছে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে

প্রচণ্ড খরার কারণে ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের পানি। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) উৎপাদন।

কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুল কার্ভ (পানির স্তর) অনুযায়ী, এ সময়ে লেকে ৮২ দশমিক ৪ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। এর পরিবর্তে আছে মাত্র ৭৬ ফুট এমএসএল পানি। আবার দিনে কয়েকবার এই পানির এই লেভেলও পরিবর্তন হচ্ছে। সকালে পানির যে লেভেল থাকে, বিকেলে সেই লেভেলে পানি পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো.আব্দুর রহমান জানান, রুল কার্ভ অনুযায়ী লেকে বর্তমানে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা তার চেয়ে ৬ ফুট কম পানি রয়েছে। পানি কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে।Kaptai

পানিকে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান উপাদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানির সাহায্যে অত্যন্ত কম খরচে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। মূল উপাদানের সংকট দেখা দেওয়ায় এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।

এই প্রকৌশলী জানান, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। তাই বৃষ্টি বেশি হলেও এই লেভেলের চেয়ে বেশি পানি লেকে ধারণ করা সম্ভব নয়। ফলে পানি বাড়লে স্পিল (গেইট) দিয়ে পানি নদীতে ছেড়ে দিতে হয়। লেকে ১০৯ ফুট এমএসএল পানি থাকলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি জেনারেটরের সবগুলো একসঙ্গে চালু করে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। লেকে পানির স্তর ৬৬ ফুট এমএসএলের নিচে নামলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকে না।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, রুল কার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকলে বর্তমানে ২২০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু লেভেলের চেয়ে ৬ ফুট এমএসএল কম পানি থাকায় বর্তমানে ১১০ থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ার কথা। কিন্তু, পানি সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বরং উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপর এক প্রকৌশলী বলেন, কবে বৃষ্টি হবে- তা বলা কঠিন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে। তাই এখন থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, লেকে এখন যে পরিমাণ পানি আছে, প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে তা কমছে। একইসঙ্গে খরার কারণে স্থানীয় লাখো মানুষের পানির প্রধান উৎস এখন লেক। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক ফুট পানি কমছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে লেকে পানির স্তর শিগগির ৬৬ ফুট এমএসএলে নেমে যাবে। লেকে পানির স্তর ৬৬ ফুট এমএসএলে নেমে গেলে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। একেবারে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ না রাখতে এখন উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে লেকের পানি অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় নৌ চলাচলেও মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে লেকের সব রুটে বর্তমানে নৌ যান চলাচল করতে পারছে না। স্বাভাবিক পানিতে ১০ মিনিটের দূরত্ব পাড়ি দিতে এখন ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। শিগগির বৃষ্টি না হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ