ধর্মঘট উপেক্ষা করে গাড়ি চালাতে চায় মালিকপক্ষ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » চট্টগ্রাম ও বন্দর

ধর্মঘট উপেক্ষা করে গাড়ি চালাতে চায় মালিকপক্ষ

আগামীকাল সোমবার থেকে শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘট উপেক্ষা করে গাড়ি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক পক্ষ।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

আজ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল।

তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করছে সরকার। ঠিক সেই মুহূর্তে হরতাল-ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে জামায়াত-শিবির চক্র।

বেলায়েত হোসেন বলেন, জামায়াতের দোসর হিসেবে পরিচিত শ্রমিক কল্যাণ সংগঠনের নামধারী কিছু নেতা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের ডাকা হরতালকে বাস্তবায়ন করতেই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের এই ধর্মঘট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকায় পাঁচ হাজার এবং চট্টগ্রামে চার হাজার নতুন সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু নিবন্ধনহীন ‘এএফআর’ লেখা অটোরিকশা চালানোর দাবিতে শ্রমিক ফেডারেশন যে ধর্মঘট ডেকেছে- তা অযৌক্তিক। চট্টগ্রামে ১৩ হাজার নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। ‘এএফআর’ লেখা অটোরিকশা বন্ধ থাকলেও সড়কে কোনো ঝামেলা হবে না।

বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা চালানোর দাবিতে মামলা করেছিল শ্রমিক ফেডারেশন। সে সব মামলা ধারাবাহিকভাবে হাইকোর্ট বেঞ্চ, চেম্বার জজ ও আপিল বিভাগে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ নগরীতে নিবন্ধনহীন অটোরিকশা চলাচলে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা চালানোর অযৌক্তিক দাবির কারণে নগরবাসী জিম্মি থাকবে না বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের এই নেতা বলেন, রিট পিটিশনের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও নিবন্ধিনহীন সিএনজি চালানো যায় কি না- তা আমাদের বোধগম্য নয়।

প্রশাসন অবৈধ গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিলে আগামী ১৯ মে থেকে নিবন্ধিত যানবাহনগুলো ধর্মঘটে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বেলায়েত হোসেন বেলাল।

সংবাদ সম্মেলনে মালিক গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা আমজাদ হোসেন হাজারী, হায়দার আজম চৌধুরী, আবদুল মান্নান, এস.কে. সিকদার, তরুণ কান্তি দাশ, জিয়াউদ্দিন শরিফ মিজান, রায়হানুল হক চৌধুরী, লেয়াকত আলী, স্বপন সিংহ, মো. জাকির, আবদুল মতিন, গাজী জামাল উদ্দিন, দীলিপ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  সংহতি জানিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেন মহানগর শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে সিএনজিচালিত অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে আগামীকাল সোমবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টার সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

এতে জানানো হয়েছিল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, টেম্পো, অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

ডিবি/এমই/এসএম

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ