কিশোরগঞ্জের হাওরে বাঁধের সংস্কার নেই, শঙ্কায় কৃষকেরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কিশোরগঞ্জের হাওরে বাঁধের সংস্কার নেই, শঙ্কায় কৃষকেরা

বোরো মৌসুমে প্রতি বছরই ব্যস্ত সময় পার করেন কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার কৃষকরা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। চলতি মৌসুমে ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন উপজেলায় ৪৮ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ১৫০ মণ দরে মোট ৭২ লাখ ৮৫ হাজার মণ ধান উৎপাদন হয়েছে ওই ৩ উপজেলায়।

কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, উৎপাদন ভালো হলেও ঘরে ফসল তোলা নিয়ে সংশয়ে আছেন স্থানীয় কৃষকরা। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। মাঠে থাকা প্রায় ৫০ লাখ টন ধান ঘরে তোলা সম্ভব না হলে লোকসান গুণতে হবে কৃষকদের।

Kishorganj

কিশোরগঞ্জের ইটনা গ্রামে বাঁধের সংস্কার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন উপজেলায় উৎপাদিত ধানের প্রায় ৩৫ শতাংশই কাটা হয়েছে। এখনও পাকার অপেক্ষায় আছে অনেক ধান। তাই এই মুহূর্তে ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে উপজেলাগুলোর ৩৫টি বাঁধের মধ্যে সবকটির অবস্থা জীর্ণ-শীর্ণ হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে তা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ও কাজ করছে কৃষকদের মধ্যে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের সংস্কার না হওয়ায় যেকোনো সময় তা ভেঙ্গে যেতে পারে। এছাড়া আগাম বন্যা, উজানের পানি ও পাহাড়ি ঢল দেখা দিলেই মাঠে নষ্ট হবে উৎপাদিত ফসল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের বেশিরভাগ বাঁধের বয়স ১৫-২০ বছর। এগুলো নির্মাণের পর থেকে আর সংস্কার হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিতে আছে বাঁধগুলো। অনেক জায়গায় মাটি সরে গিয়ে সরু হয়েছে বাঁধ। বিভিন্ন সময়ে ভাঙ্গণের কারণে কয়েকবার ফসলের ক্ষতিও হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল মিঠামইনে হিরাজুড়ি বাঁধ ভেঙে প্রায় ২০০ একর জমি তলিয়ে যায়। সর্বশেষ উজানের পানিতে চলতি মাসের শুরুতে মিঠামইনের সানকি ও হাসিমপুর বাঁধ ভেঙে যায়। এর আগে আরও তিনবার এই দুই বাঁধ ভেঙে ফসলহানি হয়েছিল।

মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, বাঁধের সংস্কার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কখন সেগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে- তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সম্প্রতি চাঁদা তুলে বাঁধের কয়েকটি স্থান মেরামত করেছেন কৃষকেরা। তবে বাঁধ ভাঙ্গার শঙ্কা রয়ে গেছে।

চরঢাকি গ্রামের কৃষক কুতুব মিয়া বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রধান প্রতিশ্রুতি থাকে বাঁধ মেরামত। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাঁধের বিষয়ে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভুলে যান তারা।

একই কথা বলেন ওই এলাকার কৃষক সাফু মিয়া ও তাজুল খান।

ইটনার কাঠখাল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শরীফ বলেন, জরুরি প্রয়োজনে টিআর, কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে কাজ চালানো হয়। তবে বাঁধগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সরকারের পরিকল্পনা ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

যেকোনো সময় আগাম বন্যা হলেই বাঁধ ভাঙতে পারে বলে জানিয়েছেন অষ্টগ্রামের ইউএনও মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন।

অর্থসূচক/সানি/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ