‘রিজার্ভ চুরির জন্য ফেডারেল রিজার্ভ-সুইফটও দায়ী’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘রিজার্ভ চুরির জন্য ফেডারেল রিজার্ভ-সুইফটও দায়ী’

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটের দুর্বলতার কারণেই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রিজার্ভ চুরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ কয়েকটি ‌আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে, রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের প্রধান ও আর্থিক বার্তা সেবা দেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুইফট প্রতিনিধির সঙ্গে আগামী সপ্তাহে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটেরও দায় রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১০ মের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেলে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন গভর্নর। গভর্নরের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইনজীবী আজমালুল হোসেনও সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেলের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

Govornor Fazle Kabir

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর।

ব্যাসেলে কে বা কারা ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটের প্রতিনিধিত্ব করবেন- তা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তারা বলেন, রিজার্ভ চুরির দায় নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভকেও নিতে হবে। হ্যাকারদের ৩৫টি আদেশের মধ্যে ৩০টি আটকানো গেলে বাকি ৫টি আটকানো গেল না কেন?

একইসঙ্গে সুইফটের দুর্বলতার বিষয়ে তারা বলেন, সুইফটের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর একটি গোপন প্রক্রিয়া। এটি অনেক বেশি নিরাপদ হওয়া উচিত। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর সুইফট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুইফটের ট্রানজেকশন প্রক্রিয়ায় এটিই প্রথম আক্রমণ নয়। এর আগেও হ্যাকাররা সুইফটে আক্রমণ করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফট কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি বলে উল্লেখ করেছে ডেইলি মেইল।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট মেসেজ পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় ১০ কোটি ডলার সরানো হয়। এর মধ্যে আরসিবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে প্রবেশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলারের একটা অংশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ফিলিপাইনের কিম অং। তবে চুরি করে ওই অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তার জানা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর গত সপ্তাহে সুইফট কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বৈশ্বিক বার্তা সেবার প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্প্রতি প্রায় ১১ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুপাটের চেষ্টা করেছে হ্যাকাররা।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ