হাসিনা মার্কেটের আগুনে ক্ষতি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

হাসিনা মার্কেটের আগুনে ক্ষতি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটে গতকাল রোববার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা না গেলেও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। এতো বেশি ক্ষতির কারণ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যে অবহেলাকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, মে দিবসের ছুটির কারণে গতকাল সকাল থেকেই দোকান বন্ধ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও শ্রমিক-কর্মচারীরা দোকানে ছিলেন না। তাই দ্রুত পণ্যসামগ্রী ও টাকাপয়সা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি ছুটির কারণে টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ দোকানে নগদ টাকা ছিল। ফলে মালামালের পাশাপাশি নগদ টাকা পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে।

আজ সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবসায়ী পুড়ে যাওয়া দোকান থেকে হিসাব নিকাশের খাতাপত্র উদ্ধারে ব্যস্ত। কিন্তু কিছু অবশিষ্ট নেই; যা আছে কেবলই ধ্বংসাবশেষ। পুরো মার্কেটের চিত্র একই। মার্কেটের দোতলায় টিনগুলো পুড়ে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে। সেই সঙ্গে আলু-পেয়াজ, ডালসহ মালামাল পুড়ে কয়লা হয়ে আছে। বাতাসে কাঠ-কয়লার পোড়া গন্ধ।

Karwan Bazar2

কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটের পাশের কয়েকটি দোকানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: মহুবার রহমান

মার্কেটের ৭০ নম্বর রহমানিয়া স্টোরের মালিক লুৎফুর রহমান অর্থসূচককে জানান, দোকানের দোতলায় মজুদ করা সয়াবিন তেল, সিগারেটসহ প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ক্যাশ বাক্সেও ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ছিল।

ভাই ভাই বাণিজ্য বিতানের মালিক মো. স্বপন জানান, ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার মতো পেঁয়াজ-রসুন-আলু পুড়ে গেছে। এছাড়া টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় ১৫ -১৬ লাখ টাকা দোকানে ছিল। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

সাজ্জাদ হোটেলের মালিক আব্দুল খোকন জানান, আগুনে দোকানের এসি, ফ্রিজ, চেয়ার টেবিল সব পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আদা, রসুন, হলুদ, মরিচসহ দোকানে থাকা প্রায় ৫০ লাখ টাকার পণ্য পুড় গেছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি কাঁচামালের আড়ৎদার জামাল হাউজের নূরে আলম।

মার্কেটে হলুদ-মরিচের দোকান ও হোটেলগুলো বেশি ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে, এসব দোকানের প্রায় সবকটিতে কোটি টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ও নগদ টাকা ছিল।

অতিরিক্ত ক্ষতির জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অবহেলাকে দায়ী করছেন মার্কেটের প্রত্যেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, আগুন লাগার দেড় ঘণ্টা পর তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কয়েকটি গাড়ি আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে সব দোকান পুড়ে শেষ। রাতে ঝড়ের কারণে বাতাস বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে অবশ্য আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সর্ভিসের ২৬টি ইউনিট যোগ দেয়।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আগুন দেখামাত্র আমাদের কয়েকজন ব্যবসায়ী ফায়ার সর্ভিসকে খবর দেয়। কিন্তু ফায়ার সর্ভিস কোন মার্কেট ও ঠিকানা জানার মতো নানা প্রশ্ন করে সময় ক্ষেপন করেছে। ফলে তারা যখন এসছে তখন সব পুড়ে ছারখার। ফায়ার সার্ভিস এসে মূলত কয়লার আগুন নিভিয়েছে।

Karwan Bazar

দুই ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। ছবি: মহুবার রহমান

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, মার্কেট উচ্ছেদ করে বহুতল মার্কেট তৈরির বিষয়ে বেশ কিছু দিন ধরে সিটি কর্পোরেশনরে সঙ্গে ব্যবসায়ী সমিতির দেন-দরবার চলছিল। ফলে আগুন লাগার কারণ এবং ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল রোববার রাতে ওই কমিটি গঠন করা হয়। আজ সোমবার থেকে কমিটি তাদের কাজ শুরু করবে।

গতকাল রাতে ফায়ার সর্ভিসর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই মার্কেটে প্রবেশের রাস্তা সরু এবং আলো-বাতাস বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একটু সময় লেগেছে।

অর্থসূচক/শাফায়াত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ