২২ লাখ গৃহশ্রমিকের কাছে নেই মে দিবসের তাৎপর্য
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

২২ লাখ গৃহশ্রমিকের কাছে নেই মে দিবসের তাৎপর্য

শ্রমজীবী মানুষের কাজের স্বীকৃতি ও প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারাবিশ্বে মে দিবস পালিত হলেও গৃহশ্রমিকের কাছে দিনটি তাৎপর্যহীন।

গৃহশ্রমিক অধিকার বিষয়ে কাজ করে- এমন কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, দেশে বিদ্যমান শ্রম আইন ও তার অধীন বিধি-বিধানের আওতায় গৃহশ্রমিকের কার্যক্রম সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রিত হয়নি। শ্রমিক হিসেবে গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃত কোনো পরিচয় নেই।

Household workers

ছবি সংগৃহীত

‘গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরামের’ তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে গৃহশ্রমিক রয়েছে ২০ থেকে ২২ লাখ। আইনগত অধিকার ও মর্যাদা পায় না তারা।

এক জরিপে বলা হয়েছে, একজন গৃহআইশ্রমিকের দৈনিক আয় গড়ে ৯০ টাকা। এই বিপুল সংখ্যক কর্মজীবীদের মিলছে না কোনো মিলছে না কোনো আইনগত অধিকার ও মর্যাদা।

সংগঠন দুইটির প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ অর্থসূচককে বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন ও তার অধীন বিধি-বিধানের আওতায় সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় শ্রমিক বলে স্বীকৃত পরিচয় নেই গৃহশ্রমিকদের। এ বিষয়ে আইনি কাঠামো হওয়া এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা-২০১৪ নামে একটি নীতিমালার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। নীতিমালার খসড়ায় গৃহশ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা, সন্তানদের শিক্ষা, সাপ্তাহিক ছুটি, অবসরকালীন ভাতা, চিকিৎসাসহ মোট ১৩টি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়। কিন্ত দুঃখের বিষয় সেটি আজ দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।

বাংলাদেশ গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, জাতীয় সংসদে গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কয়েকবার আলোচনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জাতীয় মহিলা সংস্থার আইনি পরামর্শক অ্যাডভোকেট করিমা পারভিন বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন মূলত প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি।

দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, গৃহশ্রমিকসহ দেশে যে ব্যাপক সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ আছে। কিন্তু তাদের সুরক্ষা তেমন মানদণ্ড নেই। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের মজুরি বা অন্যান্য পাওনা নির্ভর করে মালিকদের ইচ্ছার ওপর। এতে করে এই শ্রেণির মানুষ জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বড় ধরনের আপস করে চলেছে প্রতিনিয়ত। ফলে দুর্ভাগ্যজনক হলো, দেশের শ্রমজীবীদের বড় একচটি আজো অধিকার-বঞ্চিত।

অর্থসূচক/শাফায়েত/ এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ