রামেকে চিকিৎসা উপকরণসহ তীব্র ওষুধ সংকট
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রাজশাহী

রামেকে চিকিৎসা উপকরণসহ তীব্র ওষুধ সংকট

rajshahi medical college hospitalরাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জরুরি ওষুধসহ চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে সাধরণ চিকিৎসা সেবা। অক্সিজেন ও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ)। যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অস্ত্রপাচার কার্যক্রমও।  শিগগিরই এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রামেক হাসপাতালে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২০ দিনের বেশি সময় ধরে এ সংকট চলছে। যত দিন যাচ্ছে সংকট তত বাড়ছে।

২০১৩-১৪ সালের ‘এমএসআর’ দরপত্র ক্রয় ও ‘স্পট’ দরপত্র ক্রয়ের উপরে স্থানীয় আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কিনতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া টানা অবরোধের কারণে অক্সিজেন ও গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-২০১৪ সালের ওষুধসহ চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বান করেন। গত ১২ নভেম্ব^র ওই দরপত্রে সবচেয়ে কম দাম দিয়ে দরপত্র পায় একমি লেবরেটরিসহ আরও কয়েকটি কোম্পানি। তবে এ দরপত্রে বিভিন্ন ধরণের অনিয়মের অভিযোগ এনে রামেক হাসপাতালসহ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করে ফাহিম মেডিকেল স্টোর। আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। এরপরেই ওষুধ কেনার প্রক্রিয়াটি থেমে যায়।

এরপরে ২৫ নভেম্বর এমএসআর কমিটির জরুরি সভায় স্পট দরপত্রের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১ ডিসেম্বর রামেক হাসপাতালে জরুরি ওষুধ সরবরাহের জন্য স্পট দরপত্র খোলা হয়। কিন্তু এ স্পট দরপত্রের ওপরেও ২ ডিসেম্বর আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলে ওষুধ ক্রয়ের পুরো প্রক্রিয়াই থেমে যায়।

সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. এবিএম মনসুর রহমান জানান, রামেক হাসপাতালে বর্তমানে জরুরি ইনজেকশনের মধ্যে অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত ওরাডেকসন, সেফটি (অ্যান্টিবায়োটিক), সিপ্রোক্লোসামিন, মেট্রোনিডাজল, ট্যাবলেটের মধ্যে সিপ্রোক্লাসোমিন (এ্যান্টিবায়টিক) এবং সব ধরনের স্যালাইন সংকট চলছে। জরুরি তেমন কোনো ওষুধ এখনো স্টোর রুমে নেই। শুধু ওষুধই নয়, জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় গজ, ব্যান্ডেজ, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিসেপটিকেও সংকট দেখা দিয়েছে হাসপাতালে। এছাড়া টানা অবরোধের কারণে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংকটের পাশাপাশি রামেক হাসপাতালে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক আসম বরকতুল্লাহ জানান, দরপত্র নিয়ে জটিলতার কারণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তারা। জরুরিভাবে ওষুধের প্রয়োজন। হাসপাতালের গজ, ব্যান্ডেজ, সিরিজের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে অপারেশনের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, সরাসরি দরপত্রের পাশাপাশি স্পট দরপত্রের ওপরে আদলতের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। এছাড়া ডিসেম্ব^রে আদালত বন্ধ থাকায় তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। শনিবার সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ