জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিকপক্ষ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিকপক্ষ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের ডাকা নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর এবার জাহাজ চালানো বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। সরকার প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি কার্যকরে অপরাগতা প্রকাশ করেছে তারা। গত মঙ্গলবার নৌ পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল বুধবার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে মালিকপক্ষ।

লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে আটকা পড়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় ৬৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ (মাদার ভেসেল)।

আজ সকালে কর্ণফুলী নদীর বেশ কয়েকটি ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, মালিকপক্ষের জাহাজ না চালানোর সিদ্ধান্তের কারণে ঘাটে এবং এর আশপাশের এলাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা।

ctg-port

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি সংগৃহীত

জাহাজ মালিকদের সংগঠন কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, সরকার শ্রমিকদের জন্য যে মজুরির প্রস্তাব করেছে- তা মানলে এক বছরেই লাইটারেজ জাহাজ সেক্টরে বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকারের প্রস্তাবিত মজুরির শর্তের কারণেই জাহাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ।

তিনি বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণী বৈঠকে মালিকদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে মালিকপক্ষ। এই বেতন কাঠামো মেনে আমরা জাহাজ চালাব না।

খোরশেদ আলম বলেন, বর্তমানে দেশে চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে ৬৫ শতাংশেরই ধারণ ক্ষমতা ১২০০ টনের নিচে। সরকারের প্রস্তাবিত মজুরি মেনে নিলে এই জাহজগুলো এক বছরের মধ্যে লোকসান গুণবে।

গত মঙ্গলবারের মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ‘ক’ শ্রেণির জাহাজে ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির জাহাজে সাড়ে ৯ হাজার টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির জাহাজে ৯ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই বৈঠকে টানা ৬ দিন ধরে চলা নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা গতকাল বুধবার কাজে যোগ দিলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেন মালিকপক্ষ।

বাংলাদেশ লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক নবী আলম অর্থসূচককে জানান, নীতিগতভাবে সরকার আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে সবাই কাজে ফিরেছিলাম। কিন্তু জাহাজ সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মালিকপক্ষ। এজন্য তারা জাহাজ চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসক জাফর আলম জানান, শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে ৭০টি জাহাজ আটকে ছিল। গত মঙ্গলবার রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর ৬টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়েছিল। কিন্তু সরকার প্রস্তাবিত মজুরি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এতে বাকি জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাসের বুকিং প্রত্যাহার করেছেন তারা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া খোলাপণ্যের (বাল্ক) সিংগভাগই কর্ণফুলী নদীর ১৭টি বাণিজ্যিক ঘাট দিয়ে খালাস হয়। এই ঘাটগুলো ব্যবহারে বছরে ৪০-৪৫ লাখ টন পণ্য খালাস হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টন মটর, ছোলা, কয়লা, গমসহ প্রায় ২০ ধরনের পণ্য খালাস হয় এসব ঘাটে। কর্ণফুলীর এই ১৭ ঘাটে খালাস হওয়া পণ্যের অধিকাংশই চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

গত ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে নৌযান ধর্মঘট ডাকে শ্রমিকরা। চলমান অস্থিরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘাটে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে যোগানের পরিমাণ কমে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

অর্থসূচক/ডিআর/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ