রিজার্ভ চুরিতে দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

রিজার্ভ চুরিতে দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে আপাতত ক্ষতি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী। ছবি সংগৃহীত

সংসদে প্রধানমন্ত্রী। ছবি সংগৃহীত

আজ বুধবার সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিমের পক্ষে সরকারি দলের সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাকি অর্থও ফেরত আনা যাবে।

তিনি বলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আরও বড় রকমের হ্যাকিং বন্ধ করা গেছে। একইসাথে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতায় অর্থ ফেরত আনার তৎপরতার ফলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি ঠেকানো গেছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন একটি রিপোর্ট দিয়েছে। সে মোতাবেক নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব তৎপরতার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘ মেয়াদে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রাক্কালে ২০১৬ এর জুনের শেষে যে পরিমাণ নিট বৈদেশিক সম্পদের (১ হাজার ৮৬৬ বিলিয়ন টাকা) লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে তার তুলনায় মার্চে শেষে প্রকৃত নিট বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ, রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের পরেও দাঁড়িয়েছে অনেক বেশি। বর্তমানে এর পরিমাণ ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন টাকা। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মূদ্রানীতি বাধাগ্রস্ত হবারও কোনো আশঙ্কা নেই।

আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার কোনো অফশোর ব্যাংকিং করার অনুমতি দেয়নি। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সরকার নতুন ব্যাংক স্থাপন ও এর শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছে। অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ৩টি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা দেশে ব্যাংক স্থাপন করেছে এবং বিদেশেও এর শাখা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে বিদেশে ব্যবসা করে টাকা আনে না। আবার অনেকে টাকা বাইরে নিয়ে যায়। এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে বিদেশে টাকা পাঠিয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের অনেকেই বিদেশে টাকা পাচার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টাকা পাচার রোধ ও বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রীর পুত্রের পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা হয়েছে।

অর্থসূচক/বাসস/ডিএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ