'বিসিকের অব্যবস্থাপনার কারণেই ট্যানারি সরানো যাচ্ছে না'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘বিসিকের অব্যবস্থাপনার কারণেই ট্যানারি সরানো যাচ্ছে না’

হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরের জন্য সাভারের চামড়া শিল্প নগরী মোটেও প্রস্তুত নয়। অথচ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে এ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। একইসঙ্গে ট্যানারি সরাতে সরকারকে অযৌক্তিক ও অবাস্তব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে সংস্থাটি। সাভারের নবনির্মিত চামড়া শিল্প নগরী পর্যবেক্ষণ শেষে এমন চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘হাজারীবাগ ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর পরিস্থিতি, সমস্যাদি ও করণীয়’ বিষয়ে বাপা আয়োজিত গোল টেবিল আলোচনায় এ চিত্র তুলে ধরা হয়।

গবেষক, কলামিস্ট ও বাপার সহসভাপতি আবুল মকসুদ বলেন, ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তার দায়ভার বিসিককে নিতে হবে। কারণ ট্যানারি স্থানান্তরে সাভারের চামড়া শিল্প নগরী কতটা প্রস্তুত- তা বিসিক পরিস্কার করছে না। তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। খুবই গদাই লস্কারীভাবে কাজ করছে বিসিক। তারা এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি।

BAPA

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘হাজারীবাগ ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর পরিস্থিতি, সমস্যাদি ও করণীয়’ বিষয়ে বাপা আয়োজিত গোল টেবিল আলোচনা।

তিনি বলেন, অপরদিকে সাভারের চামড়া শিল্প প্রকল্প সম্পর্কে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে বিসিক। এতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের। ফলে দেশের অত্যন্ত মূল্যবান একটি শিল্প অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

আবুল মকসুদ বলেন, মালিক-শ্রমিক, সরকার সবার আবেগকে আমরা মূল্যায়ন করি। কিন্তু সরকারকে এটা বুঝতে হবে, এত বড় শিল্পের সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্য জড়িত। এই শ্রমিকরা সেখানে গিয়ে কোথায় থাকবে, খাবে কী, তাদের চিকিৎসা কোথায় হবে? তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার কী হবে? এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সাভারের চামড়া শিল্প প্রকল্পের নির্মাণাধীন সিইটিপির (কমন এফ্লিয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) ৮৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করছে বিসিক। কিন্ত বিসিকের প্রস্তুতকৃত এ প্রকল্পের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সাভারের চামড়া শিল্পের জন্য বরাদ্দ ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ১৪৩টির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ৫ম তলায় ১টি, ৩য় তলায় ২টি, ২য় তলায় ১৪টি এবং ১ম তলায় ৪২টি ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যাগুলোর অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে।

বাপার সহ-সভাপতি বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পে নগরীর কাজ শেষ না করেই ট্যানারি সরানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তা মোটেও বাস্তবসম্মত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ছিল না। গায়ের জোরে নয়; সরকার, বিসিক, মালিকসহ সব পক্ষকেই আন্তরিক হয়ে এ সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেলওয়ার হোসেন বলেন, আমরা বার বার বলছি, চামড়া শিল্প নগরী মোটেও প্রস্তুত নয়। কেবল মুখেই বলা হচ্ছে, আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী। কিন্তু সেখানে শিল্পের কাঁচামাল রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেনেজ সিস্টেম এখনও তৈরি হয়নি। শ্রমিকদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় শিল্প স্থানান্তর অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

চামড়া শিল্প নগরীর সব কাজ এখনও শেষ হয়নি স্বীকার করে প্রজেক্ট ডিরেক্টর আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ট্যানারির মালিক পক্ষের গাফিলতির কারণেই কাজে সমন্বয় হচ্ছে না।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে পরিবেশবিদরা আলোচনা অংশ নেন।

অর্থসূচক/শাফায়াত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ