মেয়ের পরিচয় ডিএনএ-৫৬, আজও বিচারের আশায় বাবা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মেয়ের পরিচয় ডিএনএ-৫৬, আজও বিচারের আশায় বাবা

২৪ এপ্রিল, ২০১৩ সাল। ইতিহাসের মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার দিন। ওই দিন শত মা হারিয়েছে তার সন্তান, শত বাবার বুকে চেপেছে নীরব কান্নার পাথর!

ওই দিনে সাভারের রানা প্লাজা ধসে প্রায় ১ হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রায় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে।

ভয়াবহ ওই ঘটনাটি ঘটে মূলত ভবন ও কারখানা মালিকের অমানবিক সিদ্ধান্তের কারণে। ভবনটিতে আগে ফাটল দেখা দেওয়ার পরেও সেখানে ২৪ এপ্রিল পোশাক শ্রমিকদের ঢুকতে বাধ্য করে মালিকপক্ষ। এর কিছু পরেই হুড়মুড়িয়ে ধসে পরে আট তলা ভবনটি।src.adapt.960.high.Bangladesh_factory_122413.1387902560869

ঘটনায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয় মালিক রানার বিরুদ্ধে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যত কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি।

মৃত স্বজনের আত্মার শান্তির জন্য বিচার চান স্বজনেরা। বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সহায়তা মোটামুটি পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সবাই। কিন্তু দোষী রানার বিচার না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছেন না নিহতের স্বজনেরা।

আজও তাদের মুখে একটিই কথা, ওই ঘটনায় দায়ীদের বিচার চাই। ‘হত্যাকারীদের’ বিচার হলে তবুও তাদের শান্তনা মিলবে।

এমনই এক সন্তান হারানো বাবা লিয়াকত আলী। জুরাইন করবস্থানে এসেছিলেন ওই দিন মারা যাওয়া মেয়ে রাজিয়ার কবর জিয়ারত করতে।liyakot

মেয়েকে হারিয়ে তিনি অনুদান সহায়তা পেয়েছেন মোটামুটি বেশই। কিন্তু তাতে তার মনে শান্তি নাই। অশান্ত মন নিয়ে তিনি আক্ষেপ করছিলেন দোষীদের বিচার না হওয়ায়।

তার ভাষায়, টাকা-পয়সা তো অনেক পাইছি। কিন্তু, মেয়ে তো আর ফেরত পামু না। মরার আগে বিচারটা দেইখ্যা যাইতে চাই। তাইলে পরানডায় শান্তি পাইবো।

কথাগুলো যখন বলছিলেন তখন লিয়াকত আলীর চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরছিলো।

লিয়াকত আলীর বাড়ি গোপালগঞ্জে। তার মেয়ে রাজিয়া সাভারের রানা প্লাজায় অবস্থিত পোশাক কারখানায় কাটিং বিভাগে কাজ করতো। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ হয় সে।

পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে রাজিয়াকে খুঁজে পান পিতা লিয়াকত। না রাজিয়ার লাশ নয়, পেয়েছেন কেবল একটি নাম্বার, কবরের গায়ে লেখা একটি নাম ফলক,  ডিএনএ ৫৬।

মেয়ের কবরের ঠিকানা পাওয়ার পরে প্রতিবছর এইদিনে গোপালগঞ্জ থেকে জুরাইন কবরস্থানে আসেন লিয়াকত। বরাবরের মতো আজও (২৪ এপ্রিল) মেয়ের কবর জিয়ারত করতে এসেছেন মেয়ে হারানো এই পিতা।rana-plaza

এদিন জুরাইন কবরস্থানে অর্থসূচকের প্রতিবেদকের কথা হয় লিয়াকত আলীর সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার মেয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। যা দিয়ে তিনি জমিও কিনেছেন। সেখানে চাষাবাদ করেই সংসার চলছে।

তবে এতকিছুর পরেও আক্ষেপ রয়েই গেছে। মেয়ে হারানোর যন্ত্রণা প্রতিমুহূর্তে তাড়াচ্ছে লিয়াকতকে।

তাইতো এ দুর্ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবি করে চোখ ভেজালেন পানিতে। মৃত্যুর আগে এ ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার দেখে যেতে চান তিনি। এছাড়া কবর সংরক্ষণের দাবিও জানালেন এই বৃদ্ধ পিতা।

তিনি বলেন,‘মাইয়ার কবর খুইজা পাইতাছি না। এইখানে একটা খুটি দিয়া নাম্বার টানাইয়া দিলে খুইজা পাইতে সহজ হইতো।’

প্রসঙ্গত, তিন বছর পার হলেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র না পাওয়ায় এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়নি। এ মামলায় কারাগারে রয়েছে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৬ জন। এখনও অধরা হত্যা মামলার ১২ আসামি। ৪১ আসামির ২৩ জনই আছে জামিনে।

অর্থসূচক/মেহেদী/টি/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ