বন্দরে-বন্দরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় দেশি-বিদেশি জাহাজ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
নৌযান ধর্মঘটের ৩য় দিন

বন্দরে-বন্দরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় দেশি-বিদেশি জাহাজ

মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট তৃতীয় দিনে আজ শনিবার অনেকটায় অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ১৭টি ঘাটের পণ্য খালাস। অন্যদিকে খুলনা-মংলা বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে অবস্থানরত প্রায় ৬০০টি জাহাজ পণ্য ওঠা-নামার অপেক্ষায় রয়েছে।

যাত্রীদের কথা বিবেচনায় শিথিল করা হয়েছে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের ধর্মঘট; এতে নগরীর সদরঘাট থেকে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী জাহাজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রায় শত কোটি টাকার পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ভাসছে ৫১টি জাহাজ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট চললেও চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিগুলোতে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। আজ শনিবার বন্দরের জেটিগুলোতে ১৫টি জাহাজের পণ্য ওঠা-নামা করা হচ্ছে।

ctg-port

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি সংগৃহীত

নৌ ধর্মঘটের ৩য় দিনে সরেজমিন কর্ণফুলীর বেশ কয়েকটি ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করছে বিভিন্ন ধরনের নৌযান। অলস সময় পার করছেন ঘাটের প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। এছাড়া সাগরে মাছ ধরা জাহাজগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ রেখেছে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম শাখার সাধারন সম্পাদক নবী আলম অর্থসূচককে জানান, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলে ধর্মঘট ১০ মে পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। সকাল থেকে নগরীর সদরঘাট থেকে যাত্রীবাহী জাহাজ বিভিন্ন গন্তব্য ছেড়ে গেছে। আজ বিকেলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মালিক ও শ্রমিক বৈঠক আছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া খোলাপণ্যের (বাল্ক) সিংগভাগই কর্ণফুলী নদীর ১৭টি বাণিজ্যিক ঘাটে খালাস হয়। গত অর্থবছরে আমদানি হওয়া মোট ৫৫ লাখ টন বাল্ক পণ্যের ৪৫ লাখ টনই খালাস হয়েছে এই ঘাটগুলো দিয়ে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টন মটর, ছোলা, কয়লা, গমসহ প্রায় ২০ ধরনের পণ্য খালাস হয় এসব ঘাটে।

এদিকে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত সব ধরনের দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের (মাদার ভ্যাসেল) পণ্যবোঝাই-খালাস, পণ্য পরিবহন গত বুধবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে। পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে প্রায় ৫১ মত জাহাজ। বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষমাণ প্রতিটি জাহাজের দৈনিক ক্ষতি ১২ হাজার ডলার থেকে ১৫ হাজার ডলার। আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ বন্দরে আসতে পারে।

কর্ণফুলী ঘাটগুদাম মালিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, কর্ণফুলীর ১৭ ঘাটে খালাস হওয়া পণ্যের অধিকাংশই চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে গত বুধবার রাত থেকে এসব ঘাটে কোনো জাহাজ আসেনি। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মাদার ভ্যাসেলগুলোতে চিনি, সার, গম, লবণ, ক্লিংকার, জিপসাম, লাইম স্টোন, কয়লাসহ বিভিন্ন ধরনের শত কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। মাদার ভ্যাসেল বোঝাই করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা এসব পণ্য লাইটারেজ জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার কথা ছিল। এসব জাহাজে করে বিভিন্ন শিল্প কারখানার কাঁচামালও আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জাহাজে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য খালাস ও সরবরাহ না হলে সিমেন্ট এবং চিনিকলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংস্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রি-পক্ষীয় সভায় শ্রমিকের দাবি নিয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক নেতারা গতকাল ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। আজ আবারও ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ডেকেছে শ্রমমন্ত্রণালয়।

অর্থসূচক/ডিআর/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ