ভরা মৌসুমেও কমছে না সবজির দাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভরা মৌসুমেও কমছে না সবজির দাম

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ডালা ভর্তি সাজানো সবজির প্রাচুর্যতা জানান দিচ্ছে গ্রীষ্মকালিন সবজির ভরা মৌসুম। সারাদেশ থেকে রাজধানীমুখী পণ্য সরবরাহও রয়েছে স্বাভাবিক। কিন্ত এর কোনো প্রভাবই পড়ছে না দামে। বরং গত এক মাসের ব্যবধানে দুই দফা বেড়েছে খুচরা বাজারে সবজির দাম।

শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, ফকিরাপুল, সেগুণবাগিচা কাঁচাবাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন সবজি পটল, বেগুন, করলা, কাকরোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গাসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। দুয়েকটি সবজি  ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে।

Bazar

রাজধানীর কারওয়ান বাজার। ফাইল ছবি

ডাল, রসুন-তেল, আদাসহ মুদিপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মাছ-মাংসের দামও রয়েছে স্থিতিশীল।

বিক্রেতারা বলছেন, কৃষকের কাছ থেকে সবজি ভোক্তা পর্যন্ত আসতে অন্তত চারবার হাত বদল হয়। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক, স্থানীয় ফড়িয়া, ঢাকার পাইকারি আঁড়ত ও সবশেষে রয়েছে খুচরা বিক্রেতা। এর পাশাপাশি রয়েছে পরিবহণ খরচ ও রাস্তায় পুলিশি চাঁদা। এসব মিলিয়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা একটি সবজির দাম ২-৩ গুণ বেড়ে পৌঁছায় সাধারণ ভোক্তার কাছে।

তবে বিক্রেতাদের এসব যুক্তি মানতে নারাজ ক্রেতারা। তাদের মতে, ক্রেতারা সিন্ডিকেট করে প্রতিটি পণ্যে অস্বাভাবিক লাভ করতে দাম বাড়াচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজিব সরকারের সঙ্গে। অর্থসূচককে তিনি বলেন, বাজারে যে পরিমাণ মৌসুমি সবজির আমদানি তাতে দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। অথচ বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার উপরে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আজ বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ৪৫-৫০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি কাঁকরোল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঢেড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, শশা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ টাকা, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি পণ্যের মধ্যে কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ভারতীয় মোটা মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকা, মুগ ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মাসকলাই ৯০ টাকা, ছোলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্য তেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৫-৯০ টাকা, সুপার ৬৩-৬৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন প্রতিটি ৫ লিটারের রূপচাঁদা ৪৫৫ টাকা এবং তীর ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। আকার ভেদে প্রতিকেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ২৫০- ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৬৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা,  চাষের কৈ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, এবং দেশি মাগুর ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আকার ভেদে প্রতি হালি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪২০-৪৩০ টাকা, খাসির মাংস ৬০০-৬৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ টাকা, লেয়ার ১৬০-১৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি আকারভেদে ২৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩২ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে।

এদিকে বিক্রেতারা প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি করছেন ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট ৫০ থেকে ৫২ টাকা, বিআর-২৮ ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, পারিজা ৪২ টাকা, নাজির শাইল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং লতা ৩৮ থেকে ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচেছ।

সুগন্ধি চালের মধ্যে কাটারিভোগ প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, কালো জিরা চাল খোলা ৮০-৮৫ টাকা এবং প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে।

অর্থসূচক/শাফায়াত

এই বিভাগের আরো সংবাদ