বাংলাদেশ ব্যাংকে আরও ২৫ বিভাগ চায় অফিসার্স কাউন্সিল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

বাংলাদেশ ব্যাংকে আরও ২৫ বিভাগ চায় অফিসার্স কাউন্সিল

বাংলাদেশ ব্যাংকে আরও ২৫টি নতুন বিভাগ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সংগঠনটি মনে করছে, ব্যাংকিং খাত শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসব বিভাগ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি গভর্নর ফজলে কবিরের সাথে বৈঠকে তারা এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। জবাবে গভর্নর জানিয়েছেন, এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো

আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাত ও মুদ্রাবাজারের দেখভাল করে থাকে। এ ব্যাংকে বর্তমানে ৫২টি বিভাগ রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০টি শাখা অফিস রয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিল প্রস্তাবনায় ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-১’কে ভেঙ্গে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৫ নামের আরেকটি বিভাগ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে। ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-১ বেসরকারি মালিকানাধীন ২৮টি ব্যাংকে বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করে থাকে। একইভাবে সরকারি ব্যাংকে নজরদারি নিশ্চিতের লক্ষ্যে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২’কে পৃথক করে ব্যাংক ভিত্তিতে আলাদা দুটি বিভাগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৩ এবং ব্যাংক নীতি ও প্রবিধি বিভাগ থেকে ভেঙ্গে ইসলামি ব্যাংকিং নীতি ও পরিদর্শন বিভাগ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৩’কে ভেঙ্গে এসএমই পরিদর্শন বিভাগ;  অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিংকে ভেঙ্গে এক্সপোর্টার্স বেনিফিট অ্যান্ড রিকনসিলেশন ডিপার্টমেন্ট; ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টকে ভেঙ্গে ফরেন ট্রেড ডিপার্টমেন্ট ও ফরেন এক্সচেঞ্জ মনিটরিং ডিপার্টমেন্ট নামে নতুন দুটি বিভাগ; এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টকে ভেঙ্গে দুটি বিভাগ; ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রেটি ও কাস্টমার সার্ভিসকে ভেঙ্গে দুটি বিভাগ; নারী উদ্যোক্তাকে ইউনিটকে বিভাগে রূপান্তর; স্বতন্ত্র মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগ; বাসেল কাঠামো বাস্তবায়ন বিভাগ;  প্রোগ্রামস অ্যান্ড লিঁয়াজো ডিপার্টমেন্ট;  অফসাইট সুপারভিশনকে ভেঙ্গে বিএসএস অ্যান্ড ব্যাংক অবজার্ভার্স সাপোর্ট ডিপার্টমেন্ট; ইন্টিগ্রেটেড সুপারভিশন ম্যানেজমেন্ট সেলকে বিভাগে রূপান্তর; ব্যাংক পরিদর্শন বাস্তবায়ন বিভাগ; ইন্টারনাল অডিট ডিপার্টমেন্টকে ভেঙ্গে  ইন্টারনাল সার্ভিসেস ও ব্যাংকিং সুপারভিশন ও পলিসি ডিপার্টমেন্টস সমন্বয়ে দুটি বিভাগ;  পরিসংখ্যান বিভাগকে  ভেঙ্গে মনিটরি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাটিসটিকস ডিপার্টমেন্ট, ব্যাংকিং স্ট্যাটিসটিকস ডিপার্টমেন্ট, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ফরেন ইনভেস্টমেন্ট স্ট্যাটিসটিকস ও ফরেন ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এক্সটার্নাল ডেট স্ট্যাটিসটিকস ডিপার্টমেন্ট নামে ৪টি বিভাগ; আইসিটি ইনফ্রাস্ট্যাকচার সিকিউরিটি অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ডিপার্টমেন্ট; আইএস অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট এবং স্টাফ ওয়েলফেয়ার নামে নতুন বিভাগ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিলের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এসব বিভাগের জন্য ৬টি নির্বাহী পরিচালক, ২৫টি মহাব্যবস্থাপক পদ সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া শাখা অফিসে কর্মরত মহাব্যবস্থাপকের সংখ্যা দুইয়ে উন্নীত করতে বলা হয়েছে। এর ফলে মোট মহাব্যবস্থাপক পদ সৃষ্টি হবে আরও ৩৮টি। এসব পদের বিপরীতে উপমহাব্যবস্থাপক, যুগ্মপরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালক মিলিয়ে মোট কয়েক শতাধিক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কারণে নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি যাতে আটকে না যায়, সে লক্ষ্যে অফিসার্স কাউন্সিল নতুন বিভাগ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে। এর আগের গভর্নরও ঠিক এ পদ্ধতিতেই পদোন্নতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার সিদ্দিকী অর্থসূচককে বলেন, ব্যাংকের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য এ রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সুচারুভাবে সুপারভিশন ও স্থবিরতা কাটাতে এর প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করছি।

তিনি বলেন, এতে ব্যাংকিং খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

তিনি আরও জানান, সাবেক গভর্নর এসব প্রস্তাবনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। বর্তমান গভর্নর নতুন, তাই তাকে আমরা এ প্রস্তাবনা দিয়েছি। তিনি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকে সর্বশেষে ব্যাংকারস সিলেকশন কমিটি নামে একটি বিভাগ তৈরি করা হয়। এর আগে গত জুলাইয়ে ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ ও এক্সপেনডিচার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-২ নামে নতুন তিনটি বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। ওই সময়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রশমিত করতে সাবেক গভর্নর আতিউরের প্রশাসন এসব বিভাগ সৃষ্টি করে।

নিয়মিত কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ব্যাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে চুক্তিভিত্তিক দেব প্রসাদ দেব নাথ ও গভর্নর সেক্রেটারিয়াটে আ.ফ.ম. আসাদুজ্জামানকে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

এসবি/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ