ইকুয়েডরের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ইকুয়েডরের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াল

ইকুয়েডরের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে গত শনিবার দিবাগত রাতে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে উদ্ধারকর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি জরিপ বিষয়ক সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শনিবার দিবাগত রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প ইকুয়েডরের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল রাজধানী কিটো থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরের মুইসন শহরে। সমতল থেকে ১৯ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। এতে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ায়ও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো গতকাল সোমবার পরিদর্শন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া। ওই এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণের খরচ কয়েশ শত কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

Ecuador Earthquake

ইকুয়েডরে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি এলাকা।

চীনা উন্নয়ন ব্যাংক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাচ্ছে জানিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট। তবে এই অর্থ পুনর্নির্মাণ খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না- সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য ইকুয়েডরকে জরুরি তহবিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দ্য অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস্ এর মহাসচিব লুয়িস আলমাগরো।

রাফায়েল কোরেয়া বলেন, ইকুয়েডরের গত ৭ দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে শোচনীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এটি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তুপে জীবিতরা আটকা পরে আছেন, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাদের উদ্ধারকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উদ্ধার কাজের তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার রাতে উপকূলীয় শহর মান্তার কাছে একটি হোটেলের ধ্বংসস্তুপ থেকে দুই শিশু বালিকাসহ ৬ জনকে জীবিতকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই শিশু দুটির একজনের বয়স ৩ বছর ও অপর জনের ৯ বছর।

এতে আরও জানানো হয়েছে, সুইসন শহরের ওই ভূমিকম্পে অনেক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ২০০০ জনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও মরদেহ আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া আফটার শকে আরও শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত হানতে পারে বলে হুঁশিয়ারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ইকুয়েডরের পশ্চিমাঞ্চলের ভূমিকম্প দুর্গত এলাকায় বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদেন জানানো হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি পাঁচ দশমিক এক মাত্রার একটি ভূমিকম্প ছিল।

উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য সাড়ে ১৩ হাজার জরুরি কর্মী নামানো হয়েছে, এদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ইকুয়েডরের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ