বক্সিংয়ে আগ্রহ বাড়ছে ব্রিটেনের মুসলিম নারীদের
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

বক্সিংয়ে আগ্রহ বাড়ছে ব্রিটেনের মুসলিম নারীদের

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্ণ ও ধর্ম বিদ্বেষের কারণে হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অনেক দেশে প্রায় প্রতিদিনই হামলার শিকার হন সংখ্যালঘুরা। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হামলার ঘটনাও কম নয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও বর্ণ বিদ্বেষের কারণে যে সব হামলার ঘটনা ঘটে সেগুলো থেকে বাঁচতে বক্সিং শেখার প্রতি আগ্রহী হয়েছেন ব্রিটেনের নারীরা। মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্ট জয়ী নারী কিক-বক্সার খাদিজা সাফারির কোচিং সেন্টারে মুসলিম নারীদের উপস্থিতি বাড়ছে বলে জানান তিনি।

এই কিক-বক্সার জানান, সম্প্রতি কোচিংয়ের নারীদের উপস্থিতি বেড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই মুসলমান। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তারা হামলার শিকার হতে পারেন- এমন আশঙ্কা প্রতিনিয়ত তাদের মনে কাজ করছে। সেকারণেই বক্সিং শেখার প্রতি মুসলিম নারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

Khadiza Safari

মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্ট জয়ী নারী কিক-বক্সার খাদিজা সাফারি।

খাদিজা সাফারি বলেন, ব্রিটিনে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের ধারণা, মুসলিম নারীরা ঘরের বাইরে বের হন না। বাড়িতে রান্না, পরিষ্কার এবং গৃহস্থালি কাজেই ব্যস্ত থাকেন তারা। আবার সম্প্রতি ব্রিটেনে বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে। এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। এই ধরনের হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মুসলিম নারীরা বক্সিং শেখার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।

তিনি বলেন, নারীরা যখন বাইরে ঘুরে বেড়ান, তখন তারা খুব একটা স্বস্তি বোধ করেন না। যখন মাথায় স্কার্ফ দিয়ে বিভিন্ন কাজে বা ঘুরতে ঘর থেকে বের হন- তখন প্রায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন নারীরা।

খাদিজা সাফারি বলেন, বক্সিং একটা খেলা। এটা এমন এক খেলা- যার মাধ্যমে কিছু মানুষ সাহস আর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিপদের সময় নিজেদের রক্ষার কৌশলও শিখেছেন তারা।

খাদিজা সাফারির কোচিংয়ের একজন ছাত্রী বলেন, স্কার্ফ ব্যবহারের কারণে রাস্তাঘাটে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাসেল এবং প্যারিসে হামলার পর এই এ ধরনের কটুক্তি বা হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে। অনেকের ধারণা, আমি হয়তো বোমা বহন করছি।

Muslim women Boxing

খাদিজা সাফারির কোচিং সেন্টারে বক্সিং শেখায় ব্যস্ত একদল মুসলিম নারী।

ওই ছাত্রী আরও বলেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে শুধু কটুক্তি করেই ক্ষান্ত হন না। হামলার জন্যও এগিয়ে আসে অনেকেই। তাই আত্মরক্ষার্থে বক্সিং শেখাটা জরুরি। ইতোমধ্যে আমি কয়েকটি কৌশল রপ্ত করেছি।

এখন নিজেকে রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কেউ যখন আমাকে দেখে চিৎকার এবং বাজে মন্তব্য করতো- তখন আমি কান্না করতাম। কান্না করতে করতে আমি ঘরে ফিরতাম। আর বাইরে যেতে চাইতাম না। কিন্তু এখন আমি আর সেরকম মনে করি না।

সূত্র: বিবিসি

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ