২০২১ সাল পর্যন্ত 'প্যাকেজ ভ্যাট' চায় ডিসিসিআই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

২০২১ সাল পর্যন্ত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চায় ডিসিসিআই

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ।

DCCI_NBR_Pre Budget

এনবিআরের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি দল

তিনি বলেন, জিডিপিতে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) অবদান রাখে ৩০ শতাংশের বেশি। বেসরকারি খাতের ৭৫ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ খাত সংক্রান্ত। দেশের ৭৫ শতাংশ কর্মসংস্থান হয় এসএমই খাতের মাধ্যমে এবং শিল্প খাতে কর্মসংস্থান ৮০ শতাংশই এসএমই খাতভিত্তিক। তাই আগামী বাজেটে (২০১৬-১৭ অর্থবছর) ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত ‘প্যাকেজ ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

প্রাক বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নাজিবুর রহমান।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন এ খালেদ বলেন, আসন্ন বাজেটে ব্যাক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া মহিলা করদাতা ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ টাকা টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি।

আয়কর আরোপের ক্ষেত্রে আয়ের প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ ও এর বাইরে বাকি আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন ডিসিসিআই সভাপতি।

ডিসিসিআই সভপতি বলেন,  বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ফলে মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো প্রায়োজন।

হোসেন খালেদ বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ থেকে থেকে প্রাপ্ত অর্থের করমুক্ত আয় ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা, মার্চেন্ট ব্যাংক, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ব্রোকারেজ হাউজের কর হার কমানোরও দাবি জানান। এর মধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকের করের হার সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট করের হার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং ব্রোকারেজ হাউজের কর হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতাদের ন্যূনতম আয়কর ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা, জেলা সদরের পৌরসভায় ৪ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২ হাজার টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার টাকা করতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৪০ শতাংশ মেরামত ব্যয় হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দেন। বর্তমানে বাড়িভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের ২৫ শতাংশ মেরামত ব্যয় ধরা হয় এবং এ আয়ের ওপর কর দিতে হয় না।

এছাড়াও ডিসিসিআইয়ের তিনি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অগ্রিম আয়কর বাতিল, চেম্বার ও ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সব ধরনের আয়কে করমুক্ত ঘোষণা, ঋণ ফেরত না দেওয়া আয়ের আয়করমুক্ত সীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা, এসএমইয়ের ফাইবার আমদানির ওপর থেকে অগ্রিম আয়কর বাতিল, পরিবহন খাতে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া, শিক্ষা খাতকে কর ও মূসকের আওতামুক্ত রাখা, ট্রাভেল এজেন্টদের উৎস কর কমানোর প্রস্তাব দেন।

অর্থসূচক/মাইদুল /মেহেদী

এই বিভাগের আরো সংবাদ