'ওভার এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় বাড়বেই'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

‘ওভার এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় বাড়বেই’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ (Over Exposure) সমন্বয়ের সময় বাড়বেই। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হতেই হবে।

muhith

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত-ফাইল ফটো

শুক্রবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ  ওভার এক্সপোজার ইস্যুতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক মো: রকিবুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উপস্থিত দায়িত্বশীল একটি সূত্র অর্থসূচককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠান শেষে ওয়েস্টিন হোটেলের লিফটে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অর্থমন্ত্রীকে বলেন, ‘মুহিত ভাই, ব্যাংকের ওভার এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর বিষয়টির অবস্থা কি’?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সময় বাড়ানোর বিষয়ে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এটি বাড়বেই।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, নতুন গভর্নরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।কোন প্রক্রিয়ায় সময় বাড়ানো যায় তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিক বিশ্লেষণে তারা মনে করছে, আইন সংশোধন না করেই সময় বাড়ানো সম্ভব হবে হয়তো।

উল্লেখ, ২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের (Exposure) নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়। আগের আইনে প্রতিটি ব্যাংক তার আমানতের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারতো। নতুন আইন অনুসারে, প্রত্যেক ব্যাংক নিজ নিজ রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে।

বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নামিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিমাণ গণনার (Definition of Exposure) সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়।

আইন সংশোধনের ফলে অনেক ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে। চলতি বছরের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিনয়োগ সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।এ ধরনের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।

চলমান বাজার পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ে শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয় করা খুবই দুরুহ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রিতে এলে বাজারে ব্যাপক দর পতন হতে পারে। এতে একদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো বিপুল লোকসানের মুখে পড়বে। অন্যদিকে ওই চাপ থেকে পুরো বাজারের বের হয়ে আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এমন বাস্তবতায় বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর দাবি উঠে।

গত বছরের শেষভাগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একাধিক দফায় ঘোষণা দেন, তারা ওভার এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় ২ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না থাকায় সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ কমেনি। অন্যদিকে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কিছু বক্তব্যে সময় আদৌ বাড়বে কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা আহ্বান জানিয়েছেন, খুব দ্রুত বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান স্পষ্ট করার। তাদের বক্তব্য,  বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো ভাবছে, নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু এমনটি করা হলে তা সময় বাড়ানোর উদ্দেশ্য পূরণে খুব বেশি সহায়ক হবে না। কারণ অনিশ্য়তা থাকা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এমন কি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সঠিক পরিকল্পনা করতে পারবে না। ফলে বাজার মন্দাবৃত্তেই ঘুরপাক খাবে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের কারো কারো মতে, নি:শর্ত সময় বাড়ানো উচিত হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে, সময় বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে মূলধন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া; যাতে বাড়তি বিনিয়োগের একটা বড় অংশ এমনিতেই সমন্বয়ের আওতায় চলে আসে। কোনো কারণে বাজার গতিশীল না হলেও যেন ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ফের সময় বাড়ানোর দাবি না উঠে, বাজারে এ নিয়ে উদ্বেগ অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ