নববর্ষে জমজমাট মৌসুমী ব্যবসা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নববর্ষে জমজমাট মৌসুমী ব্যবসা

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। কাগজের টুপি, কাচের চুড়ি, শোলার পাখি, মাটির গহনা নিয়ে বসেছেন কেউ কেউ। আবার খেলনা আসবাবপত্র, নলখাড়ার বাঁশি, ঢোল-ডুগডুগি, একতারা থেকে শুরু করে রান্নাঘরের জন্য বঁটি-খুন্তিসহ হরেক রকম লোকজ পণ্য দিয়ে পসরা সাজিয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

Footpath Sale

শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ফুটপাতে জমে উঠেছে মৌসুমী ব্যবসা।

এসব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বার্ষিক আয়ের বড় একটা অংশ আসে বাংলা বছরের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন মেলা থেকে। তাই বৈশাখের প্রথম দিনে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সারাবছর ধরে তৈরি করেছেন কুটির ও মৃৎ শিল্পের বিভিন্ন পণ্য। পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রায় ২ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। তাদের উৎপাদিত ও সংগৃহীত পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাস খানেক আগে ঢাকায় এসেছেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেসক্লাব, রমনা শাহবাগ, টিএসসি, চারুকলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হাজার রকমের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতরা। বেচা-বিক্রিও বেশ ভালো।

Footpath Sale2

শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ফুটপাতে জমে উঠেছে মৌসুমী ব্যবসা।

লক্ষীপুর থেকে এসেছেন বাচ্চু মিয়া। তিনি রমনায় ফুটপাতে প্লাস্টিকের চরকি, ঢোলসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা বিক্রি করছেন। তিনি জানান, মহাজনের কাছ থেকে বাকিতে মাল কিনে এক মাস আগে ঢাকায় এসেছেন।

বিক্রি কেমন হচ্ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাচ্চু মিয়া বলেন, বৈশাখকে ঘিরে আমাদের ব্যবসা। এর মধ্যে বৈশাখের পয়লা দিনে বিক্রি বেশি হয়। এ সময়ে মোটামুটি ভালো আয় হয়। বছরের প্রথম দিনের আয়ের উপর আমাদের সংসার খরচ অনেকটা নির্ভরশীল।

টিএসসি এলাকায় কাঠের চুড়ি, মালা, স্প্রিন্টের চুড়ি নিয়ে বসেছেন ফরিদপুরের বাসিন্দা রাজীব। তিনি জানান, প্রতিটি আইটেমই ২০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রামের লোকজন সারা বছরই এই কুটির শিল্পের কাজ করেন। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ২ মাস আগ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। বৈশাখের প্রথমদিনের বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবার কয়েকজনকে সঙ্গে মাস খানেক আগে ঢাকায় এসেছি। প্রত্যেকেই ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পণ্য সাজিয়ে বসেছে।

বাঁশের চালুন, ডালা, কুলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বসেছেন নার্গিস আক্তার। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়িতে কারিগর নিয়ে এসব বাঁশের সামগ্রী তৈরি করেছি। প্রতি পিস বাঁশের চালুন-কুলার দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছি।

Footpath Sale3

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে জমে উঠেছে মৌসুমী ব্যবসা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে মাটির তৈরি ডুগডুগি বিক্রি করছেন গাইবান্ধার ষাটোর্ধ্ব মোজাম্মেল হোসেন। তিনি জানান, নিজ বাড়িতে তৈরি করা ৬০০ ডুগডুগি নিয়ে কয়েকদিন আগেই ঢাকায় এসেছি। প্রতিটি ডুগডগি ১০-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চারুকলার সামনে কথা হলো মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকা থেকে মেলায় আসা ফারিন উর্মির সঙ্গে। নিজেকে শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তিনি জানালেন, ছোট ভাই শাওনকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। ইতোমধ্যে অনেক কিছু কিনেছি। এখানে কাচের চুড়ি দেখে থমকে দাঁড়ালাম। না কিনে চলে গেলে ভালো লাগবে না। তাই কিনে নিলাম।

উর্মি আরও বলেন, মৃৎ শিল্পের অনেক পণ্য মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছুই আমাকে আকর্ষণ করছে। তবে ইচ্ছে থাকলেও সব পণ্য কেনা সম্ভব নয়। তাই অনেক ইচ্ছেকে মনের গোপন ঘরে চাপা রেখেই বাসায় ফিরতে হবে।

অর্থসূচক/মাইদুল/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ