কালে-ভদ্রে ঢাকায় আসে বাঁশ-বেতের হাত পাখা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কালে-ভদ্রে ঢাকায় আসে বাঁশ-বেতের হাত পাখা

অসহ্য গরমের মাঝে ট্রাফিক জ্যামে আটকে আছি। এই পীড়ার মধ্যে পাশেরই একজন গুনগুন করে গান ধরলেন, তোমার হাত পাখার বাতাসে, প্রাণ জুড়িয়ে আসে। একে তো গরম, তার ওপর প্রিয় মানুষের হাতে পাখার বাতাসের নষ্টালজিয়া।

গত কয়েক বছরে হাত পাখার বাতাস তো দূরে থাক, হাত পাখাই চোখে দেখিনি। অথচ এক সময় গরমে আরামে পেতে এই হাত পাখাই ছিল একমাত্র ভরসা। যান্ত্রিকতার এই যুগে আরও অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গের মতো হাত পাখাও বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তির পথে বলছি কারণ এক সহকর্মী জানালেন, কালে-ভদ্রে এখনও ঢাকা শহরে হাত পাখার দেখা মেলে।

Boishak

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার দোকানগুলো সেজেছে মৃৎ শিল্পের পণ্যে। দোকানগুলোতে ঠাঁই পেয়েছে বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক বাঁশ-বেত-তাল পাতার তৈরি হাত পাখাও। ছবি: মহুবার রহমান

তার কথা মতো যাত্রা করলাম দোয়েল চত্বরের পথে। সেখানে পৌঁছেই তো চক্ষু চড়ক গাছ। রাশি-রাশি ভারা ভারা হাত পাখা। কৌতুহল বশে সুমন নামের এক বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, সামনে বৈশাখ, তাই হাত পাখার ছড়াছড়ি। সুদূর রাজশাহী ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে এ পাখা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তাল পাতা, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা আকার ও ধরনের এত হাতপাখা অনেকদিন একসঙ্গে দেখিনি। সেই কবে, কোন কারণে হাটে গেলে এমনটি দেখা যেত। সর্বশেষ গত বছর এক ধরনের হাত পাখা দেখেছিলাম; তাও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে কাগজ দিয়ে তৈরি। ওই পাখায় তো আর বাতাস পাওয়া যায় না।

তবে সুমনের দোকানে যেসব পাখা পাওয়া গেল সেগুলো পুরোপুরি নষ্টালজিয়াকে তীব্র করে তোলার মতো। এর মধ্যে তাল পাতা দিয়ে তৈরি পাখা ৩০ টাকায়, বাঁশের পাখা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় এবং বেতের পাখা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চাইনিজ পাখা বলে খ্যাত এক ধরনের গোলাকার পাখা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ টাকায়।

Boishak5

নববর্ষ উপলক্ষে দোয়েল চত্বরে মৃৎ শিল্পের পণ্যের বাজার বসলেও বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ছবি: মহুবার রহমান

সুমনের মতো আরও কয়েকজন বিক্রির উদ্দেশ্যে হাত পাখা নিয়ে বসেছেন দোয়েল চত্বরে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পয়লা বৈশাখের আগে-পরে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব পাখা বিক্রি হয়ে যাবে। এরপর নাকি কাউকে ফ্রি দিলেও নিতে চায় না। তখন কিছু পাখা আগুন জ্বালানোর কাজে লাগানো হয়।

ইলেকট্রিক পাখার আগ্রাসনে তালপাতা, বাঁশ ও বেতের তৈরির পাখা ব্যবহারের আবেগ অনেককে অবাক করে দেবে হয়তো। বর্ষবরণের আধুনিক ডামাডোলে এ আবেগ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তাও ভালো, যদি হাত পাখারা টিকে থাকে। নয়তো পরবর্তী প্রজন্মকে গল্পের খাতিরে জানাতে হবে, ‘যথেষ্ট দ্রুত গতি স্বত্বেও তখনও বিদ্যুৎ এত দূরে পৌঁছায়নি, তীব্র গরমে আমরা হাতপাখার বাতাসে আরাম পেতাম। হাত পাখা নাড়াতে নাড়াতে এক হাত ব্যথা হলে, অন্য হাতে নিতাম। এ পাখার বাতাস অতটা তীব্র ছিল না, তবে ছিল প্রশান্তি।’

অর্থসূচক/এসবি/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ