খাদ্য নিরাপত্তায় ফুড ব্যাংক জরুরি: শেখ হাসিনা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

খাদ্য নিরাপত্তায় ফুড ব্যাংক জরুরি: শেখ হাসিনা

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব ফুড ব্যাংক গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে ৩য় সার্ক কৃষিমন্ত্রী পর্যায়ের সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তিনদিন ব্যাপী এ বৈঠকের আয়োজন করেছে।

PM_Agri Bank

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তৃতীয় সার্ক কৃষিমন্ত্রী পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখেন। ছবি পিআইডির

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার একজন মানুষকেও যাতে খাদ্যের অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সার্ক খাদ্য ব্যাংক হবে আমাদের বিপদের বন্ধু।

একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষকদের হাতে শস্যবীজের অধিকার সংরক্ষিত রাখার জন্য একটি ‘সার্ক বীজ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন,‘আমরা চাই একটি মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, অপুষ্টিতে না ভোগে। আমরা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চাই। কিন্তু কোনো একক দেশের পক্ষে তা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন যৌথ উদ্যোগ।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের অবস্থান শীর্ষে। সভ্যতা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্য সত্ত্বেও আজও বিশ্বের সকল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে এখনও প্রায় ৮০৫ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। অর্থাৎ প্রতি ৯ জনে একজন অপুষ্টিতে ভুগছেন। আবার এরমধ্যে ৭৯১ মিলিয়ন মানুষের বসবাস উন্নয়নশীল দেশে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২৭৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ এই অপুষ্টিতে ভোগার দলভুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক দশকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩ গুণ এবং শাকসবজির উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণ। বছরে ৩৪ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদন হচ্ছে দেশে।বর্তমানে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশে সীমিত পরিমাণ হলেও চাল রপ্তানি শুরু করেছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে চতুর্থ এবং চাষের মাধ্যমে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। গত ৩ দশকে মাছের উৎপাদন প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বাৎসরিক উৎপাদন ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে গবাদি-পশু এবং হাঁস-মুরগী খাতে বিশেষ করে মাংস, ডিম এবং দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভারতের কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী রাধা মোহন এবং সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা বক্তৃতা করেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলের দেশগুলোর দারিদ্র্য এবং ক্ষুধা দূরীকরণে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ