দেশের প্রথম বার্ন ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ শুরু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

দেশের প্রথম বার্ন ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ শুরু

দেশের প্রথম বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীর চাঁনখারপুলে আজ বুধবার ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের অর্থ আছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন- এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়- এমন কথা আমি বিশ্বাস করি না।

তিনি জানান, এই ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরুর পর প্রতিবছর গড়ে ১০-১২ জন চিকিৎসক উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবেন। দগ্ধ রোগীদের সেবা দিতে এই ইনস্টিটিউটের সঙ্গে তৈরি হবে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। এছাড়া দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজে বার্ন ইউনিট চালু করা হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৬ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে দগ্ধ হন। তাদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ সার্জন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৫২ জন চিকিৎসক এই সেবা দিচ্ছেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের অর্থ আছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন- এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়- এমন কথা আমি বিশ্বাস করি না।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের মধ্যে চাঁনখারপুলে ১ দশমিক ৭৬ একর জমিতে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে সরকার। এর জন্য প্রক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধানে নির্মিত ওই ইনস্টিটিউটে দুই তলা বেইজমেন্টসহ মোট ১২ তলা ভবন তৈরি হবে। বার্ন ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং একাডেমিক ৩টি ব্লকে বিভক্ত থাকবে এটি।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয়টি বেড নিয়ে বার্ন বিভাগ চালু করেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। অধ্যাপক সামন্ত লালের চেষ্টায় ২০০৩ সালে সেটি ৫০ বেডের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে কাজ শুরু করে।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর বার্ন ইউনিটের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ইউনিটের বেড বাড়িয়ে প্রথমে ১০০ ও পরে ৩০০ করা হয়।

অর্থসূচক/বিএন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ