সময় বাড়ানোর চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ

সময় বাড়ানোর চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে

পুঁজিবাজারে তপসিলি ব্যাংকগুলোর বাড়তি বিনিয়োগ (ওভার এক্সপোজার) সমন্বয়ের সময় সীমা বাড়ানোর চিঠি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চারটি প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি দিয়েছে ডিএসই। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, চারটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি বিনিয়োগ (ওভার এক্সপোজার) সমন্বয়ের সময় সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত করা, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন শেয়ারকে এক্সপোজারে না আনা, ডিএসইর মাধ্যমে বন্ডের লেনদেন চালু করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তপসিলি ব্যাংকগুলোকে শেয়ার কেনাবেচা সংক্রান্ত ১৫ দিন অন্তর যে রিপোর্ট দিতে হয়; তা ১৫ দিনের পরিবর্তে ৩ মাস করা।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাত দিয়ে উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান অর্থসূককে বলেন, চারটি প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এ চিঠি গভর্নরকে দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে যান ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান।

জানা গেছে, গভর্নর ফজলে কবির তাদেরকে বলেন, আমরা এই চিঠিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠাবো। তাদের মতামত পাওয়ার পর এটি অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি কার্যকর করা হবে।

এদিকে গত রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেটকে সামনে রেখে আলোচনায় বসেন অর্থনীতি রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে। বৈঠকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব দেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক ও অর্থসূচক সম্পাদক জিয়াউর রহমান। আলোচনার এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য সব ধরণের নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত সরকার।

জানা গেছে, বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ পুঁজিবাজার ইস্যুতে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ওভার এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় বাড়ানো সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠাতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গভর্নর তাদের কাছে এ বিষয়ে অনুরোধ জানাতে ডিএসইকে পরামর্শ দেন। এর আলোকে ডিএসই সোমবার লিখিত প্রস্তাব পাঠায় গভর্নরের কাছে।

২০১০ সালে ব্যাপক দরপতনের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দেশের পুঁজিবাজার। এরপর ধারাবাহিক দরপতনের কারণ খুঁজতে থাকে সরকার। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দরপতন হচ্ছে। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ (Over Exposure) সমন্বয়ের সময়সীমা দুই বছর বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গত বছরের ১ নভেম্বর এ পরামর্শ দেন তিনি।

১১ নভেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ফিসক্যাল কো-অর্ডিনেশন কমিটির বৈঠকে সময় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা একমত পোষণ করেন। এরপর ১৫ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক আইনের কারণে ক্যাপিটাল মার্কেট একটু অ্যাফেক্ট হচ্ছে। এই আইন ক্যাপিটাল মার্কেটে একটা প্যানিক সৃষ্টি করেছে। আমরা আইনটা সংশোধন করে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় সীমা দুই বছর বাড়িয়ে দেব। সংশোধনীর জন্য আইনটি দ্রুত মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানান তিনি।

গত বছর ১০ ডিসেম্বর অর্থসূচক আয়োজিত বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৫ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ বা ওভার এক্সপোজার সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে তা আগেই এড়ানো যেত। এক্ষেত্রে আমি বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও নমনীয় এবং পুঁজিবাজারবান্ধব হতে পরামর্শ দেব।

ওই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, পুরো আর্থিক খাতের অভিভাবক। মুদ্রাবাজারের মতো পুঁজিবাজারও আর্থিক খাতের অংশ। তাই মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। একটির ভালো-মন্দের প্রভাব অন্যটির উপরে পড়তে বাধ্য।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে আরোপিত শর্তের কারণে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সক্ষমতা কমে গেছে। আগে প্রতিটি ব্যাংক তার আমানতের ১০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারতো। ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুসারে এখন ব্যাংকগুলো নিজ নিজ রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। আইনের এই সংশোধনীর ফলে আগের আইনে বিনিয়োগ করা কয়েকটি ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ সীমার বাইরে পড়ে গেছে। এ ব্যাংকগুলোর উপর ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি করতে হলে ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। কিন্তু মন্দা বাজারে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। এরা শেয়ার বিক্রি করলে তার চাপে বাজারে শেয়ারের দাম অনেক কমে যেতে পারে এমন আশংকা অন্যান্য অনেক বিনিয়োগকারী হাত গুটিয়ে বসে আছে। এতে বাজার মন্দার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ