'পুঁজিবাজারে নীতি সহায়তা দেবে সরকার'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘পুঁজিবাজারে নীতি সহায়তা দেবে সরকার’

ERF-FM-Pre-budget

অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট মত বিনিময় সভা

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য সরকার নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাবে। তবে বাজারে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

তিনি বলেন, বাজার তার স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। এখানে উঠা-নামা স্বাভাবিক বিষয়।

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। রোববার সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি সাইফ দিলালের পরিচালনায় সভায় ইআরএফের নির্বাহী পরিষদের সদস্য, সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ।

বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থসূচক সম্পাদক ও ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে অনেকগুলো সংস্কার করেছে সরকার। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে এ সংস্কারের তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে প্রাণ ফিরছে না। সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থেই পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার গতিশীল হলে দেশে আবাসন, অটোমোবাইলসহ অনেকগুলো খাতের স্থবিরতা কেটে যাবে। এসব খাতের সঙ্গে অসংখ্য উপ-খাত যুক্ত আছে। সেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।

এক্সপোজার (Exposure)-এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করে বন্ড ও ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত বিনিয়োগ, তালিকা বহির্ভূত কোম্পানিতে বিনিয়োগ ইত্যাদিকে এক্সপোজার থেকে বাইরে রাখা দরকার

তিনি আরও বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে এখনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধান চালিকা শক্তি। কিন্তু কিছু আইনী জটিলতায় পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে। বর্তমান আইন অনুসারে পুঁজিবাজারে একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ এক্সপোজার (Exposure to Capital Market) হতে পারে রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ২৫ শতাংশ। আমরা এই এক্সপোজার (Exposure)-এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করে বন্ড ও ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত বিনিয়োগ, তালিকা বহির্ভূত কোম্পানিতে বিনিয়োগ ইত্যাদিকে এক্সপোজার থেকে বাইরে রাখা দরকার।

অনেক ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক ঋণাত্মক মূলধন সংক্রান্ত জটিলতায় আছে উল্লেখ করে জিয়াউর রহমান বলেন, বাজারে এসব প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছে না। অন্যদিকে বাজারে একটু গতিশীল হলেই এসব নেগেটিভ ইক্যুইটি একাউন্ট থেকে বিপুল বিক্রির চাপ তৈরি হয়। তাতে বাজারের গতি ফের নষ্ট হয়। এ সমস্যার সমাধানে সরকার সবগুলো নেগেটিভ ইক্যুইটির একাউন্ট টেকওভার করতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারবে, বাজারে গতিশীলতা ফেরানোয় সহায়ক হবে। বাজার গতিশীল হলে সরকার এসব একাউন্টের শেয়ার বিক্রি করে মুনাফাসহ বিনিয়োগ তুলে নিতে পারবে।

এ সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ মন্দার কথা তুলে ধরে বলেন, মন্দার সময় দেশটির সরকার বেলআউটের অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংক এনএ এবং আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাপোর্ট দিয়েছে।

সরকার নেগেটিভ ইক্যুইটির একাউন্টের শেয়ার কিনে নিলে বিক্রির চাপ কমবে, বাজার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। অন্যদিকে পরে ওই শেয়ার বিক্রি করে সরকার এই বিনিয়োগ থেকে বিপুল মুনাফা করতে সক্ষম হবে

তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ৩ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ সিটি ব্যাংক এনএ’র শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৫৫ ডলার। মার্কিন অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়লে ক্রমে দর হারাতে থাকে এ ব্যাংকের শেয়ার। ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দাম দাঁড়ায় ১ ডলার ৪০ সেন্ট। সরকার ব্যাংকটিকে দেওলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য বিপুল মুলধন যোগান দেয়। আর এ মূলধনের বিপরীতে সরকারকে নতুন শেয়ার দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে শেয়ারটির দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে থাকে। ২০১১ সালে ৩০ ডিসেম্বর শেয়ারটির দাম বেড়ে হয় ২৭ ডলার।

মার্কিন সরকার সিটি এনএকে উদ্ধারের জন্য ৪৫ ডলার বিনিয়োগ করে। এই বিনিয়োগ থেকে পরবর্তীতে ১২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা হয় সরকারের।

সরকার নেগেটিভ ইক্যুইটির একাউন্টের শেয়ারগুলো কিনে নিলে একদিকে বাজারে বিক্রির চাপ কমবে, বাজার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। অন্যদিকে গতিশীল বাজারে শেয়ার বিক্রি করে সরকার এই বিনিয়োগ থেকে বিপুল মুনাফা করতে সক্ষম হবে।

অর্থসূচক সম্পাদক বলেন, লাভজনক সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে এলে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। এসব কোম্পানির সঙ্গে সঙ্গে বাজারে অনেক নতুন বিনিয়োগকারীর আগমন ঘটবে। এটি বাজারে গতি ফেরাতে সহায়ক হবে।

তার কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাবেক সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদল বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারকে পুঁজিবাজারের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। বাজার ভালো হলে কয়েকটি খাতের বিশাল উন্নয়ন হবে।

তাদের কথার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অর্থনীতির প্রয়োজনে পুঁজিবাজারের নীতি সহায়তা দিবে। তবে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

 

 

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ