তুলা আমদানিতে ভারতের বিকল্প খুঁজছেন ব্যবসায়ীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তুলা আমদানিতে ভারতের বিকল্প খুঁজছেন ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশে মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ তুলা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভারতের উপর এই নির্ভরশীলতা তৈরি হলেও সম্প্রতি নানা বিড়ম্বনায় ফেলছে দেশটির রপ্তানিকারকরা।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎসের সন্ধানে নেমেছেন দেশের তুলা ব্যবসায়ীরা। পর্যাপ্ততা ও মান বিবেচনায় বিকল্প উৎসের তালিকার প্রথমেই রয়েছে আফ্রিকা।

দেশের তুলা ব্যবসায়ীরা জানান, সহজ যোগাযোগ ও দ্রুত পণ্য পাওয়ার কারণে গত কয়েক বছর তুলা আমদানিতে ভারতের উপর নির্ভরতা কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশের আমদানিকারকদের নানা বিড়ম্বনায় ফেলছে ভারতের রপ্তানিকারকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্যাপ্ততা ও মানের ভিত্তিতে আফ্রিকাকেই বিকল্প উৎসের প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে।

দেশের তুলা ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাধারণ সম্পাদক মেহেদী আলী অর্থসূচককে বলেন, ভারত থেকে তুলা আমদানির ক্ষেত্রে সম্প্রতি বেশকিছু সমস্যায় দেখা দিয়েছে। যেমন: ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে ঠিকমত পণ্য শিপমেন্ট করছে না ভারতের রপ্তানিকারকরা; একবারের জায়গায় ২-৩ বার শিপমেন্ট; পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রপ্তানি বন্ধ; বাড়তি চাহিদা থাকলে অযৌক্তিক দর বাড়ানো; আবার নিম্নমানের তুলা সরবরাহের অভিযোগ নিষ্পত্তি নিয়ে তালবাহানা ইত্যাদি। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারকরা। এ অবস্থায় বিকল্প উৎসকে জোর দিচ্ছি। প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়ের বিষয়টি অনুকূলে থাকলে আফ্রিকা থেকে তুলা আমদানি করা হবে।

তিনি বলেন, তুলা আমদানিতে বিকল্প ভালো কোনো উৎসের সন্ধান না থাকায় ভারতের সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগও কম। এই নির্ভশীলতাকে আমাদের দুর্বলতা হিসেবে ব্যবহার করে তারা। বিকল্প উৎস থাকলে ভারতের সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগও বাড়বে।

এখন যে পরিমাণ তুলা আমদানি করা হয়, তার প্রায় ১৪ শতাংশই আফ্রিকার- এই তথ্য জানিয়ে মেহেদী আলী আরও বলেন, তুলা আমদানির বিষয়ে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার হাই-কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তুলা আমদানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিমালার নিয়েও কথা হয়েছে।

cottonবিসিএর সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাধারণত মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে আফ্রিকায় তুলা উৎপাদনের কথা বিবেচনায় আগামী মে মাসের দিকে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আফ্রিকা ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আফ্রিকার পর তাজাকিস্তানকে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তুলা আমদানি-রপ্তানি বিষয়ক যেকোনো তথ্য সরবরাহের জন্য ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজারি কমিটি (আইসিএসি) নামে একটি সংগঠন আছে। ওই সংগঠনের সদস্য হলে আমদানিকারকরা সরাসরি তুলা সম্পর্কিত সব তথ্য পাবে। সারা বিশ্বের খবর থাকলে অন্য যেকোনো উৎসের চিন্তা করতে পারব।

আইসিএসির সদস্য হতে বাংলাদেশ কটন অ্যসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি এ পদক্ষেপের বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিসিএ ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্য মতে, বর্তমানে ভারত থেকে ৫০ শতাংশ তুলা আমদানি হলেও ৬ বছর আগে প্রতিবেশী দেশটি থেকে মাত্র ২২ শতাংশ তুলা আমদানি হতো।

বিটিএমএর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্পিনিংসহ অন্যান্য খাতে বছরে মোট ৬০ লাখ বেল তুলার চাহিদা থাকলেও দেশের উৎপাদন মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার বেল। যা চাহিদার মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বাকি সাড়ে ৫৮ লাখ বেল  তুলা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

দেশে তুলা আমদানির গত ৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১০ সালে তুলা আমদানি করা হয় ৫০ লাখ বেল। এর মধ্যে ভারত থেকে এসেছে ১০ লাখ বেল। অর্থাৎ মোট আমদানির ২২ শতাংশ। তবে সর্বশেষ ২০১৫ সালে মোট ৬০ লাখ বেল আমদানিকৃত তুলার মধ্যে ৩০ লাখ বেলই ভারতের। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করেন বাংলাদেশের তুলা ব্যবসায়ীরা।

অর্থসূচক/এসএমএস/এসএম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ