টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের সাতকাহন
বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের সাতকাহন

গত ৮ মার্চ প্রথম পর্বের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল টি-টোয়েন্টি-২০১৬ বিশ্বকাপ। এই যাত্রা শেষ হবে আগামী ৩ এপ্রিল। ওই দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। সুপার টেনের এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয়ে সেমি-ফাইনালে খেলেছিল এই দুই দল।

টুর্নামেন্টের প্রথম সেমি-ফাইনালে বি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারায় এ গ্রুপের রানারআপ ইংল্যান্ড। এরপর দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটে হারে বি গ্রুপের রানারআপ ভারত।

এর আগে একবার করে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল ইংলিশ ও ক্যারিবীয়রা। ২০১০ সালে বার্বাডোজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরের ফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল কলিংওডের ইংল্যান্ড। এরপর চতুর্থ আসরের শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ৩৬ রানের ব্যবধানে স্বাগতিকদের হারিয়েছিল ক্যারিবীয়রা।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফেভারিটের তালিকায় ছিল ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই তালিকা থেকে শুধু ক্যারিবীয়রাই নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ফেবারিট হওয়া সত্বেও সুপার টেনের নির্ধারিত ৪ ম্যাচ খেলে বিদায় নিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আর সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ভারত।

West Indies

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৬ষ্ঠ আসরের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের উল্লাস।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে পর্যায়ক্রমে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ড্যারেন সামির দল। প্রথম ৩ ম্যাচে শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দারুণ জয় নিয়ে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করলেও সুপার টেনে নিজেদের শেষ ম্যাচে আইসিসির সহযোগী দল আফগানিস্তানের কাছে ৬ রানে হারে ক্যারিবীয়রা। তবে সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে স্বরূপে ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৩ রানের টার্গেট টপকে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি।

Joe Root and Jos Buttler

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৬ষ্ঠ আসরের প্রথম সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারানোর পর ইংলিশ খেলোয়াড়দের উল্লাস।

অন্যদিকে আলোচনায় না থেকেও গুটি গুটি পায়ে ফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজয় দিয়েই শুরু হয়েছিল ইংলিশদের টি-টোয়েন্টি যাত্রা। পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে ইয়ান মরগানের দল। শুরু থেকে তালিকায় না থাকলেও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে চমক দেয় ইংল্যান্ড। এরপর প্রতিটি ম্যাচেই আধিপত্য বজায় রেখে জয় নেয় ইংলিশরা। এর ধারাবাহিকতায় সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারায় ইংল্যান্ড।

India 2008

২০০৭-০৮ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর ভারতের খেলোয়াড়দের উল্লাস।

২০০৭-০৮ সেশনে প্রথমবারের মতো আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ভারত। সে বার ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ রানে পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তান। এবার দুই দলই খেলেছিল সুপার টেনের বি গ্রুপে।

Pakistan 2009

২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর শিরোপা হাতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের উল্লাস।

২০০৯ সালে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলে পাকিস্তান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ভার্সনের দ্বিতীয় আসরে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল এশিয়ার অপর ক্রিকেট পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা। প্রথমবারের ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে পরাজিত হলেও দ্বিতীয় আসরের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারায় ইউনিস খানের দল। লন্ডনের লর্ডসে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ওই ম্যাচে শিরোপা বিজয়ীদের মাত্র ২টি উইকেট নিতে পেরেছিল সাঙ্গাকারার সতীর্থরা।

England 2010

২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ট্রফি হাতে ইংলিশ খেলোয়াড়দের উল্লাস।

২০১০ সালে বার্বাডোজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে ক্লার্কবাহিনীকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পল কলিংওডের ইংল্যান্ড।

West Indies 2010

২০১২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর ক্যারিবীয়রা।

টানা তিন বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ২০১২ সালে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ভার্সনের চতুর্থ আসর বসে শ্রীলঙ্কায়। আগের তিন আসরের স্বাগতিকরা ফাইনালে খেলতে না পারলেও চতুর্থ আসরে ফাইনাল খেলেছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি দলটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩৬ রানে পরাজিত হয়েছিল জয়বার্ধনের দল। ওই ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৭ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৩৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয় বোলিং তোপে ১৮.৪ ওভারে ১০১ রানে থামে লঙ্কান ব্যাটিং ইনিংস।

Sri Lanka 2014

শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর লঙ্কান খেলোয়াড়দের উল্লাস।

২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওই আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল উপমহাদেশের ২ ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত ও শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ও চতুর্থ আসরে ফাইনালে গিয়েও ট্রফিতে চুমু দিতে পারেনি লঙ্কান খেলোয়াড়রা। তবে ২০১৪ সালে মিরপুরে আয়োজিত ফাইনাল লঙ্কানদের জন্য আশীর্বাদ বার্তা বয়ে আনে। পঞ্চম আসরে প্রথমবারের মতো শিরোপায় চুমু আঁকে সাঙ্গাকারার দল। ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩১ রানের টার্গেট দেয় ভারত। এর জবারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ