জামায়াতের হরতাল প্রত্যাহার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রাজনীতি

জামায়াতের হরতাল প্রত্যাহার

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়ায় আজ সোমবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রত্যাহার করেছে জামায়াত।

আজ এক বিবৃতিতে দলটি এ কথা জানিয়েছে।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় শাহবাগ এলাকা তোলা ছবি

আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় শাহবাগ এলাকা তোলা ছবি

বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক বিজয় নির্দিষ্ট কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিজয় নয়। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষেরই বিজয়।

বিচারপতি নাইমা হায়দার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাই কোর্টের বৃহ্ত্তর বেঞ্চ রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে চ্যালেঞ্জ এ রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন।

তিন সদস্যের এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।

উল্লেখ, ২৮ বছর আগে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনকালে চতুর্থ জাতীয় সংসদে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়। সেই সংশোধনীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার হয়।

এর পরেই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখনই ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা ধর্মবিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক।

এর পর ২০১১ সালের ৮ জুন হাইকোর্টে একই বিষয়ে সম্পূরক আরেকটি আবেদন করে রিটের শুনানির আবেদন করা হয়। পরে ওই আবেদনে শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেন।

রুলে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া কেন অবৈধ, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার ও আইন সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

রুলের জবাব দাখিলের পর গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনকীরীদের অপর একটি আবেদনে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। পরে ওই রুল শুনানির জন্য আদালতের নজরে নেওয়া হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বৃহত্তর এই বেঞ্চ ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ