হরতাল করছে জামায়াত
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

হরতাল করছে জামায়াত

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে’ জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। আজ সোমবার সকাল ৬টা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হরতাল শুরু করে জামায়াত।

হরতালের ঘোষণা দিয়ে গতকাল রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে এ হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়।জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় শাহবাগ এলাকা তোলা ছবি

আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে শাহবাগ এলাকা তোলা ছবি

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক মুসলিম দেশেই রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম রয়েছে। জনগণের পক্ষ থেকে এমন কোনো দাবি ওঠেনি যে, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হবে। হাতেগোনা কতিপয় রাষ্ট্র ও ধর্ম বিদ্বেষী ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য সরকার যদি সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা কখনো মেনে নিবে না। যে সব ব্যক্তি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে যুক্তি দেখাচ্ছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পর্যন্ত দলটির কোনো মিছিল ও পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া হরতালকে ঘিরে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি।

হরতালে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও মোড়ে বাড়তি পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

এদিকে হরতালে সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। বেলা যতই বাড়ছে গণপরিবহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ব্যক্তিগত পরিবহনও চলাচল করতে দেখা গেছে।

হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্রের গাড়ি।

উল্লেখ, ১৯৮৮ সালে সংবিধানে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেছিলেন লেখক, সাহিত্যিক, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ ২৮ মার্চ ওই রুলের ওপর শুনানি রয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে সেই আবেদনের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি হলেও কোনো শুনানি হয়নি।

পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্যান্য ধর্মের সমঅধিকারের কথা বলা হলেও ইসলামকেই রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল রাখা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ