পাটশিল্প উন্নয়নে ৪ চ্যালেঞ্জ!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

পাটশিল্প উন্নয়নে ৪ চ্যালেঞ্জ!

সোনালী আঁশের স্বর্ণালী দিন ফেরাতে কত কি না করছে সরকার। পাটের বহুমুখী ব্যবহারে সম্প্রতি পণ্যে পাটজাত মোড়ক বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে পাটকে। তারপরও পাটশিল্পের উন্নয়নে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব চ্যালেঞ্জের মধ্য রয়েছে- ১. সরকারের পক্ষ থেকে গার্মেন্টস, চামড়াসহ অন্যান্য শিল্পে যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় সে তুলনায় পাটশিল্পে সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। ২. বিভিন্ন শিল্প খাতে ইডিএফ (এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) থেকে ২ শতাংশ আর্থিক সহায়তা পেলেও পাটে সে ধরনের কোনো সুবিধা নেই। ৩. পাটের বীজ উৎপাদনেও প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেয় না সরকার। ৪. গার্মেন্টস, প্লাস্টিক এবং চামড়া শিল্পের জন্য সরকারের গ্রিন ফান্ড (সবুজ অর্থায়ন) থাকলেও পাটশিল্পে তা নেই।

রপ্তানিকারকরা জানান, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পোশাক, প্যাকেজিং, চামড়া ও সিরামিকসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে ইডিএফ (এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) থেকে ২ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আমরা দেশীয় কাঁচামাল নির্ভর শিল্প বলে এ ধরনের কোনো সহায়তা পাই না। দেশীয় কাঁচামাল নির্ভর বলে আমাদেরকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়া উচিত।

বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পোশাক, প্যাকেজিং, চামড়া ও সিরামিকসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে ইডিএফ (এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) থেকে ২ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আমরা দেশীয় কাঁচামাল নির্ভর শিল্প বলে এ ধরনের কোনো সহায়তা পাই না। দেশীয় কাঁচামাল নির্ভর বলে আমাদেরকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়া উচিত।

দেশের বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) সচিব এ. বারিক খান অর্থসূচককে বলেন, পাটশিল্প দেশিয় কাঁচামাল নির্ভর। তাই এই খাতের জন্য বিশেষ ফান্ড তৈরি হলে চাষীরা পাট উৎপাদনে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন।

পাটের বীজ উৎপাদনের জন্য সরকারের কাছে অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পাটের বীজের ক্ষেত্রে আমরা ভারতের উপর নির্ভরশীল। ভারত থেকে প্রতিবছর সাড়ে ৪ হাজার টন বীজ আমদানি করতে হয়। আমাদের দেশে উৎপাদন হয় মাত্র দেড় হাজার টন বীজ।

এ. বারিক আরও বলেন, আমদানি করা বীজের মান খারাপ হলে পাটের উৎপাদনও খারাপ হয়। পাটের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সরকারি সহায়তা পেলে আমাদের দেশেই ভালো মানের পাটের বীজ উৎপাদন করা সম্ভব।

“সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে আমরা এ স্বর্ণালী আশকে স্বর্ণালী দিনের পণ্যে রূপান্তরিত করতে পারবো। একইসঙ্গে এ উদ্যোগ মানুষকে পাট উৎপাদনে উৎসাহিত করবে।”

প্রসঙ্গত, পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ এর বাস্তবায়নও করা হয়েছে। পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় এখন থেকে অন্যান্য কৃষিপণ্যে যে ধরনের সরকারি ভর্তুকির সুযোগ রয়েছে তা পাটকেও দেওয়া হবে।

অর্থসূচক/মেহেদী/শাহীন/এসএম/

এই বিভাগের আরো সংবাদ