সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম

প্রায় দুই মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর চলতি সপ্তাহে রাজধানীর খুচরা বাজারে কমেছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম। বিক্রেতারা জানান, দেশি পেঁয়াজ-রসুন বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে সরবরাহ বাড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্য দুটির দাম কমতে শুরু করেছে।

রাজধানীর শান্তিনগর, ফকিরাপুলসহ বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা করে কমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়। গত সপ্তাহে যেটি বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা। আর আমদানি করা মোটা পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে উৎপাদিত রসুন রাজধানীর বাজারে প্রবেশ করায় গত সপ্তাহের তুলনায় কজিতে ৫ টাকা করে কমেছে দেশি পণ্যটির দাম। বর্তমানে খুচরা বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা দরে। একই সঙ্গে কমেছে আমদানি করা মোটা দানার রসুনের দামও। কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে এটি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। গত সপ্তাহে পণ্যটি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে সরকারি বাণিজ্যিক ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। গত সপ্তাহে এই পণ্যটি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর আমদানি করা মোটা পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

দাম কমার বিষয়ে জানতে চাইলে শান্তিনগর বাজারের ব্যবাসায়ী লুৎফর রহমান অথসূচককে জানান, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ ও রসুন বাজারে আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম নিম্নমুখী। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ-রসুন পুরোদমে আসতে শুরু করলে দাম আরও কমে যাবে।

এদিকে কাঁচাবাজারে পটল, ঢেড়স ও বেগুনের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা কমলেও খুব বেশি উঠা-নামা করেনি অন্য সবজির দাম। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি কেজি প্রতি ৪৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মান ও আকার ভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, শিম ৪৫ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা।

এছাড়া প্রতিটি মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং চাল কুমড়া ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, মৌসুমী সবজীর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সবজির দাম। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দামেও খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি কেজি প্রতি ৪৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মান ও আকার ভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, শিম ৪৫ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা।

মুদি পণ্যের মধ্যে দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আমদানি করা মোটা মসুর ডাল ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুগ ডাল ১১০ টাকা; দেশি আদা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা ও মোটা আদা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে পাম অয়েলের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি লিটার পাম অয়েল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এটি ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও বোতলজাত তেলের দামে তেমন হেরফের হয়নি। বোতলজাত সয়াবিন তেলের মধ্যে প্রতিটি ৫ লিটারের রুপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৪৫৫ টাকায় এবং তীর ৪৪০ টাকায়।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতিকেজি রুই মাছ ১৮০-৩৫০ টাকা, কাতল ২৫০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ টাকা দলে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইলিশ মাছ প্রতি হালি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের দামেই পাওয়া যাচ্ছে মুরগি ও হাঁসের ডিম। ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি হালি ৩২ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ও হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি ১৫৫ টাকা ও লেয়ার ১৭০ টাকা, গরুর মাংস ৪০০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অর্থসূচক/শাফায়াত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ